আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ক্রমেই বদলে যাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি নতুন শব্দ—সামাজিক জেটল্যাগ। এটি এমন এক অবস্থা, যেখানে মানুষের শরীরের ভেতরের সময় এবং সামাজিক জীবনের সময়ের মধ্যে অমিল তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে সরাসরি ঘুম ও স্বাস্থ্যের ওপর।
শরীরের ঘড়ি বনাম সামাজিক সময়
প্রতিটি মানুষের জীবন চলে দুটি ভিন্ন সময়ের উপর নির্ভর করে। একটি হলো সামাজিক সময়, যা নির্ধারিত হয় কাজ, স্কুল, সভা কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট সময়সূচির মাধ্যমে। অন্যটি হলো শরীরের নিজস্ব ঘড়ি, যা ভেতর থেকেই জানিয়ে দেয় কখন ঘুমাতে হবে বা কখন ক্ষুধা লাগছে।

এই শরীরঘড়িকে বলা হয় দৈহিক ছন্দ, যা স্বাভাবিকভাবে মানুষের ঘুম ও জাগরণের সময় নির্ধারণ করে। কিন্তু যখন এই দুই সময়ের মধ্যে অমিল তৈরি হয়, তখনই দেখা দেয় সামাজিক জেটল্যাগ।
সপ্তাহের দিন আর ছুটির দিনের দ্বন্দ্ব
যাদের শরীরের ছন্দ আগে শুরু হয়, তারা সাধারণত সপ্তাহের দিনে সহজেই ভোরে উঠে কাজ বা স্কুলে যেতে পারে। কিন্তু ছুটির দিনে তারা দেরি করে ঘুমায় বা রাত জাগে, ফলে তৈরি হয় সময়ের অসামঞ্জস্য।
অন্যদিকে, যাদের শরীরের ছন্দ দেরিতে কাজ করে, তারা সপ্তাহজুড়ে সকালে উঠতে কষ্ট পায় এবং ছুটির দিনে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে। এই অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাসই ধীরে ধীরে সামাজিক জেটল্যাগের দিকে নিয়ে যায়।

অ্যালার্ম নির্ভরতা একটি সতর্ক সংকেত
প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার জন্য যদি অ্যালার্মের ওপর নির্ভর করতে হয়, তবে সেটি হতে পারে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে অসামঞ্জস্যের একটি বড় লক্ষণ। এই অবস্থায় মানুষ প্রায়ই ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের অভাব অনুভব করে।
সমাধানের পথ কোথায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ থাকতে হলে ঘুম ও জাগরণের সময়কে যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখতে হবে এবং সেটিকে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। এতে শরীর ও মন দুটোই থাকবে সতেজ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















