আফ্রিকার স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের বিদেশি সহায়তা কমে যাওয়ায় এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে দেশগুলো। অনুদানের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের অর্থায়নের পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক সরকার এখন মদ, তামাক ও চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর বাড়তি কর আরোপের মতো বিকল্প ভাবছে।
সহায়তা কমে সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার বহু দেশ স্বাস্থ্যখাতে আন্তর্জাতিক অনুদানের ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গেছে। ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংগঠনগুলো হঠাৎ করেই বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়ে গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী ও শিশুদের সহায়তায় কাজ করা একটি সংস্থার উদাহরণ দেখলেই বোঝা যায় সংকট কতটা গভীর। অর্থের অভাবে তাদের কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে, কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে এবং অনেক ভুক্তভোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।

বেসরকারি সহায়তাও কমছে
শুধু সরকারি অনুদান নয়, বেসরকারি দাতাদের অর্থায়নও কমেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের কারণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন ও প্রতিষ্ঠান আগের মতো সহায়তা দিতে পারছে না। ফলে এই খাতে অর্থের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
বিশেষ করে এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে অর্থ কমে যাওয়ায় সাব-সাহারান অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘পাপ কর’ দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা
এই পরিস্থিতিতে অনেক আফ্রিকান দেশ নতুন রাজস্ব উৎস হিসেবে তথাকথিত ‘পাপ কর’ বা ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে। নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা ও ইথিওপিয়া ইতিমধ্যে তামাক, মদ ও চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

এছাড়া কিছু দেশে বিমান টিকিটের ওপর কর আরোপ করে স্বাস্থ্যখাতে অর্থ জোগানের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
সমাধান নয়, সাময়িক উপায়
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আফ্রিকার অনেক দেশ ইতোমধ্যেই ঋণের চাপে জর্জরিত এবং তাদের বাজেটের বড় অংশ ঋণ পরিশোধেই ব্যয় হয়। ফলে স্বাস্থ্যখাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নতুন অর্থায়ন মডেলের সন্ধান

পরিস্থিতি বদলাতে আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন অর্থায়ন মডেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশভিত্তিক বিনিয়োগ, যৌথ তহবিল এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে কিছু নতুন দাতা সংস্থা ও দেশও এগিয়ে আসছে, তবে তা এখনো আগের ঘাটতি পূরণ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ
অর্থসংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। অনেক ক্লিনিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগীরা বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালে ভিড় করছেন, যেখানে আগে থেকেই চাপ বেশি। ফলে সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে।
এই পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে সমাজের প্রান্তিক মানুষ, যাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















