০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
বিলুপ্তির পথে প্রাণীজগৎ: টিকে থাকার শেষ লড়াই নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: সার সংকটে বিপর্যস্ত আমেরিকার কৃষক, বাড়ছে খাদ্যমূল্যের আশঙ্কা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিস্ফোরক পরিস্থিতি, যুদ্ধ থামাতে ‘জয় দেখানোর’ কৌশলে ট্রাম্প চীনে দূষণবিরোধী লড়াই থমকে কেন? অর্থনীতি, আবহাওয়া ও জনচাপ—সব মিলিয়ে জটিল সমীকরণ কর্নেল ওসমানী যেভাবে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হয়ে উঠেছিলেন আফগান নীতি ভাঙনের মুখে পাকিস্তান, ইতিহাসের কঠিন শিক্ষা সামনে জারার বিলাসী রূপান্তর: সস্তা ফ্যাশন থেকে প্রিমিয়াম সাম্রাজ্যে উত্থান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্ব নেতৃত্বের পরীক্ষায় আমেরিকা, ব্যর্থ হলে কাঁপবে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য আসামে জঙ্গি হামলা: গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণে আহত ৪, পালিয়ে গেল হামলাকারীরা শিশুদের ক্ষতির দায়ে প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে রায়, সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা

সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের লাভ, জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বৈষম্য

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। যেখানে সৌর শক্তির দ্রুত বিস্তারে পাকিস্তান বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

সৌর বিপ্লবে পাকিস্তানের সাশ্রয়

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলে বিনিয়োগে ঝুঁকেন। এর ফলে দেশটি ডিজেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে পাকিস্তান প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা জ্বালানি আমদানি কমার সরাসরি ফল।

Iran war exposes energy divide between Bangladesh, solar-rich Pakistan -  Nikkei Asia

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর চাপ

অন্যদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার খুব সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাড়ানোর কারণে দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে।

সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল

দুই দেশের পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ ছিল ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলার নীতি। বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম কম রাখতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের চাপ তৈরি হয়নি। বিপরীতে পাকিস্তান সরাসরি জ্বালানির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌর শক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

Energy fallout from Iran war signals a global wake-up call for renewable  energy | WRIC ABC 8News

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটিও সৌর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

শিল্প খাতে সৌর শক্তির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বড় কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও কিছুটা কমছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিলুপ্তির পথে প্রাণীজগৎ: টিকে থাকার শেষ লড়াই নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা

সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের লাভ, জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বৈষম্য

০৩:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। যেখানে সৌর শক্তির দ্রুত বিস্তারে পাকিস্তান বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

সৌর বিপ্লবে পাকিস্তানের সাশ্রয়

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলে বিনিয়োগে ঝুঁকেন। এর ফলে দেশটি ডিজেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে পাকিস্তান প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা জ্বালানি আমদানি কমার সরাসরি ফল।

Iran war exposes energy divide between Bangladesh, solar-rich Pakistan -  Nikkei Asia

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর চাপ

অন্যদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার খুব সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাড়ানোর কারণে দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে।

সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল

দুই দেশের পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ ছিল ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলার নীতি। বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম কম রাখতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের চাপ তৈরি হয়নি। বিপরীতে পাকিস্তান সরাসরি জ্বালানির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌর শক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

Energy fallout from Iran war signals a global wake-up call for renewable  energy | WRIC ABC 8News

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটিও সৌর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

শিল্প খাতে সৌর শক্তির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বড় কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও কিছুটা কমছে।