০৮:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের লাভ, জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বৈষম্য

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। যেখানে সৌর শক্তির দ্রুত বিস্তারে পাকিস্তান বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

সৌর বিপ্লবে পাকিস্তানের সাশ্রয়

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলে বিনিয়োগে ঝুঁকেন। এর ফলে দেশটি ডিজেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে পাকিস্তান প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা জ্বালানি আমদানি কমার সরাসরি ফল।

Iran war exposes energy divide between Bangladesh, solar-rich Pakistan -  Nikkei Asia

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর চাপ

অন্যদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার খুব সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাড়ানোর কারণে দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে।

সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল

দুই দেশের পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ ছিল ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলার নীতি। বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম কম রাখতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের চাপ তৈরি হয়নি। বিপরীতে পাকিস্তান সরাসরি জ্বালানির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌর শক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

Energy fallout from Iran war signals a global wake-up call for renewable  energy | WRIC ABC 8News

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটিও সৌর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

শিল্প খাতে সৌর শক্তির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বড় কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও কিছুটা কমছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সৌর শক্তিতে পাকিস্তানের লাভ, জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ: ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র বৈষম্য

০৩:০৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। যেখানে সৌর শক্তির দ্রুত বিস্তারে পাকিস্তান বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।

সৌর বিপ্লবে পাকিস্তানের সাশ্রয়

পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলে বিনিয়োগে ঝুঁকেন। এর ফলে দেশটি ডিজেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে পাকিস্তান প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা জ্বালানি আমদানি কমার সরাসরি ফল।

Iran war exposes energy divide between Bangladesh, solar-rich Pakistan -  Nikkei Asia

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর চাপ

অন্যদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার খুব সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাড়ানোর কারণে দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে।

সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল

দুই দেশের পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ ছিল ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলার নীতি। বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম কম রাখতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের চাপ তৈরি হয়নি। বিপরীতে পাকিস্তান সরাসরি জ্বালানির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌর শক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

Energy fallout from Iran war signals a global wake-up call for renewable  energy | WRIC ABC 8News

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটিও সৌর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

শিল্প খাতে সৌর শক্তির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বড় কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও কিছুটা কমছে।