ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট পার্থক্য সামনে এসেছে। যেখানে সৌর শক্তির দ্রুত বিস্তারে পাকিস্তান বড় অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, সেখানে আমদানিনির্ভর জ্বালানির কারণে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
সৌর বিপ্লবে পাকিস্তানের সাশ্রয়
পাকিস্তানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের পর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সৌর প্যানেলে বিনিয়োগে ঝুঁকেন। এর ফলে দেশটি ডিজেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে পাকিস্তান প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে পারে, যা জ্বালানি আমদানি কমার সরাসরি ফল।

বাংলাদেশে আমদানিনির্ভর চাপ
অন্যদিকে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার খুব সীমিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বাড়ানোর কারণে দেশটি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির ওপর আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে এলএনজি আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের জ্বালানি খাতে।
সংকট মোকাবিলায় ভিন্ন কৌশল
দুই দেশের পার্থক্যের পেছনে বড় কারণ ছিল ২০২২ সালের সংকট মোকাবিলার নীতি। বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম কম রাখতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে, ফলে বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের চাপ তৈরি হয়নি। বিপরীতে পাকিস্তান সরাসরি জ্বালানির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, যা মানুষকে সৌর শক্তির দিকে ঠেলে দেয়।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও এর ফলে বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে বিকল্প উৎস খুঁজছে। তবে পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশটিও সৌর শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং আগামী কয়েক বছরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
শিল্প খাতে সৌর শক্তির সম্ভাবনা
বাংলাদেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সৌর শক্তির দিকে ঝুঁকছে। তৈরি পোশাক খাতসহ বড় কারখানাগুলো ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আংশিক জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে। এতে খরচ কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও কিছুটা কমছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















