০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল পুলিশ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার আহ্বান স্বাধীনতা দিবসে ১৮ জেসিও পেলেন সম্মানসূচক লেফটেন্যান্ট পদ ইসরায়েলের পারমাণবিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে আইআরজিসির হামলা, নতুন ক্ষেপণাস্ত্র এগিয়ে আসছে চায়ের দোকান খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, কুড়িগ্রামে শোকের ছায়া সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদ ঢাকায় আটক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে মোদির কূটনৈতিক তৎপরতা, জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কড়া নিন্দা ভারতের বাজারে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই হোন্ডার, নতুন এসইউভি ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে বাজি নগরের ভেতরে এক নীরব যুদ্ধ: পলাশীর প্রতিরোধের অজানা ইতিহাস ব্যারিকেড, রক্ত আর সাহসের এক ভুলে যাওয়া অধ্যায়

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিস্ফোরক পরিস্থিতি, যুদ্ধ থামাতে ‘জয় দেখানোর’ কৌশলে ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এমন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। টানা হামলা, পাল্টা হামলা আর জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এখন স্পষ্ট হচ্ছে—ওয়াশিংটন শুধু যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না, বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে সংঘাত থামানো গেলেও সেটি রাজনৈতিকভাবে ‘সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরা যায়।

পারমাণবিক বার্তার পাল্টা বার্তা

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া, যেখানে তারা ইসরায়েলের ডিমোনা অঞ্চলে হামলা চালায়। এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দেয়—তাদের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে প্রতিক্রিয়াও হবে একই ধরনের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন জায়গায়।

US, Israel attack Iran's Natanz nuclear facility: Iran atomic energy  organization|Arab News Japan

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ইরানের কৌশলগত শক্তির অন্যতম কেন্দ্র। এই হামলার পর ইরানের পক্ষে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। ফলে সংঘাতের মাত্রা শুধু বাড়েনি, বরং তা আরও সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হলো জ্বালানি সংকট

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জ্বালানি খাতকে ঘিরে। ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ও জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় হামলার পর পরিস্থিতি সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, সেটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলায় রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বাণিজ্যিক পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই বাড়ছে।

Donald Trump on Iran | Donald Trump sets deadline for Iran to open Strait  of Hormuz dgtl - Anandabazar

ট্রাম্পের ‘বিরতি’ আসলে কৌশল

এই উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন। তিনি দাবি করেন, আলোচনা এগোচ্ছে এবং কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেয়নি। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, তেহরান ট্রাম্পকে কোনো কূটনৈতিক ‘সাফল্যের গল্প’ দিতে রাজি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বিরতি আসলে সময় নেওয়ার কৌশল। তিনি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে যুদ্ধ থামানো হলেও সেটি তার শক্ত অবস্থানের ফল হিসেবে দেখানো যাবে। অর্থাৎ, যুদ্ধ বন্ধ করলেও যেন তা পিছু হটা হিসেবে না দেখা হয়।

পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সমস্যা সমাধানে একটি বড় ধারণা

প্রকাশ্যে অস্বীকার করা হলেও, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। একই সঙ্গে ওমান ও কাতারও উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

এই ধরনের ‘পরোক্ষ কূটনীতি’ এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর, যেখানে দুই পক্ষই সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত নয়। এতে করে তারা নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত চাপ

ওয়াশিংটনের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে তারা সামরিক চাপ বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব এড়াতে চায়। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব—সব মিলিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ইরানের পাল্টা কৌশল

ইরানও পরিস্থিতি গভীরভাবে বুঝছে। তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি ‘সমাধান’ খুঁজছে। তাই প্রকাশ্যে আলোচনার কথা অস্বীকার করে তারা ট্রাম্পের কৌশলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা দেখাতে চাইছে, চাপের মুখে নয় বরং নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই তারা প্রতিরোধ করছে।

ইসরায়েলের ভিন্ন হিসাব

এই সংঘাতে ইসরায়েলের অবস্থান কিছুটা আলাদা। তারা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা লাভের জন্য ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দ্রুত সমাধান খুঁজছে, সেখানে ইসরায়েল আরও দীর্ঘ সময় ধরে চাপ ধরে রাখতে চাইতে পারে।

ইসরায়েল রাষ্ট্র নির্মাণের নেপথ্যে পরিকল্পনায় কারা, ৬ মুসলিম দেশ ছাড়াও  যারা দিল স্বীকৃতি

সামনে অনিশ্চিত সময়

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই সংঘাতের কোনো সহজ সমাধান নেই। উভয় পক্ষই এখনও পাল্টা হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে একই সঙ্গে একটি ‘নীরব সমঝোতার’ সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ প্রকাশ্যে পিছু হটবে না, কিন্তু বাস্তবে উত্তেজনা কমে আসবে।

আগামী কয়েকদিন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই বোঝা যাবে—মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কৌশলী কূটনীতির মাধ্যমে সাময়িক শান্তির পথে যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বিস্ফোরক পরিস্থিতি, যুদ্ধ থামাতে ‘জয় দেখানোর’ কৌশলে ট্রাম্প

০৪:৪৭:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এমন এক জটিল মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ। টানা হামলা, পাল্টা হামলা আর জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে এখন স্পষ্ট হচ্ছে—ওয়াশিংটন শুধু যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না, বরং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যেখানে সংঘাত থামানো গেলেও সেটি রাজনৈতিকভাবে ‘সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরা যায়।

পারমাণবিক বার্তার পাল্টা বার্তা

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল ইরানের প্রতিক্রিয়া, যেখানে তারা ইসরায়েলের ডিমোনা অঞ্চলে হামলা চালায়। এই অঞ্চলটি ইসরায়েলের অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দেয়—তাদের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে প্রতিক্রিয়াও হবে একই ধরনের কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন জায়গায়।

US, Israel attack Iran's Natanz nuclear facility: Iran atomic energy  organization|Arab News Japan

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যা ইরানের কৌশলগত শক্তির অন্যতম কেন্দ্র। এই হামলার পর ইরানের পক্ষে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেওয়া প্রায় অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। ফলে সংঘাতের মাত্রা শুধু বাড়েনি, বরং তা আরও সংবেদনশীল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হলো জ্বালানি সংকট

এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে জ্বালানি খাতকে ঘিরে। ইরানের গ্যাসক্ষেত্র ও জ্বালানি প্রক্রিয়াকরণ স্থাপনায় হামলার পর পরিস্থিতি সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ, সেটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

যদি এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলায় রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং বাণিজ্যিক পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই বাড়ছে।

Donald Trump on Iran | Donald Trump sets deadline for Iran to open Strait  of Hormuz dgtl - Anandabazar

ট্রাম্পের ‘বিরতি’ আসলে কৌশল

এই উত্তেজনার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় সম্ভাব্য হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করেন। তিনি দাবি করেন, আলোচনা এগোচ্ছে এবং কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ইরান সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের আলোচনায় অংশ নেয়নি। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, তেহরান ট্রাম্পকে কোনো কূটনৈতিক ‘সাফল্যের গল্প’ দিতে রাজি নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বিরতি আসলে সময় নেওয়ার কৌশল। তিনি এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে যুদ্ধ থামানো হলেও সেটি তার শক্ত অবস্থানের ফল হিসেবে দেখানো যাবে। অর্থাৎ, যুদ্ধ বন্ধ করলেও যেন তা পিছু হটা হিসেবে না দেখা হয়।

পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সমস্যা সমাধানে একটি বড় ধারণা

প্রকাশ্যে অস্বীকার করা হলেও, পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তুরস্ক, মিশর ও পাকিস্তানসহ একাধিক দেশ দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। একই সঙ্গে ওমান ও কাতারও উত্তেজনা কমাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

এই ধরনের ‘পরোক্ষ কূটনীতি’ এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর, যেখানে দুই পক্ষই সরাসরি আলোচনায় বসতে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত নয়। এতে করে তারা নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই সমঝোতার সম্ভাবনা যাচাই করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত চাপ

ওয়াশিংটনের সামনে এখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে তারা সামরিক চাপ বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব এড়াতে চায়। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব—সব মিলিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

এই মুহূর্তে' ইউরোপীয়দের সঙ্গে পারমাণু আলোচনা নয় : ইরান | আন্তর্জাতিক |  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

ইরানের পাল্টা কৌশল

ইরানও পরিস্থিতি গভীরভাবে বুঝছে। তারা জানে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি ‘সমাধান’ খুঁজছে। তাই প্রকাশ্যে আলোচনার কথা অস্বীকার করে তারা ট্রাম্পের কৌশলকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তারা দেখাতে চাইছে, চাপের মুখে নয় বরং নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেই তারা প্রতিরোধ করছে।

ইসরায়েলের ভিন্ন হিসাব

এই সংঘাতে ইসরায়েলের অবস্থান কিছুটা আলাদা। তারা দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা লাভের জন্য ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দ্রুত সমাধান খুঁজছে, সেখানে ইসরায়েল আরও দীর্ঘ সময় ধরে চাপ ধরে রাখতে চাইতে পারে।

ইসরায়েল রাষ্ট্র নির্মাণের নেপথ্যে পরিকল্পনায় কারা, ৬ মুসলিম দেশ ছাড়াও  যারা দিল স্বীকৃতি

সামনে অনিশ্চিত সময়

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—এই সংঘাতের কোনো সহজ সমাধান নেই। উভয় পক্ষই এখনও পাল্টা হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে। তবে একই সঙ্গে একটি ‘নীরব সমঝোতার’ সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে, যেখানে কেউ প্রকাশ্যে পিছু হটবে না, কিন্তু বাস্তবে উত্তেজনা কমে আসবে।

আগামী কয়েকদিন তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যেই বোঝা যাবে—মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে, নাকি কৌশলী কূটনীতির মাধ্যমে সাময়িক শান্তির পথে যাচ্ছে।