যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনীতির অন্যতম বড় সম্মেলন সিপ্যাক এমন এক সময় শুরু হয়েছে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের মধ্যেই গভীর মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। টেক্সাসে আয়োজিত এই সম্মেলনে হাজারো কর্মী, প্রভাবশালী কণ্ঠ ও রিপাবলিকান নেতারা জড়ো হলেও, যুদ্ধের প্রশ্নটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে রক্ষণশীলদের দ্বিধা
ট্রাম্প এখনও রক্ষণশীলদের বড় অংশের সমর্থন ধরে রাখলেও, ইরানে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে জোরালোভাবে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষ এই সামরিক পদক্ষেপকে অতিরিক্ত মনে করছেন। ফলে “আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির সঙ্গে এই যুদ্ধ কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যেও বিভাজন স্পষ্ট। কেউ যুদ্ধকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ ব্যানন সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে রিপাবলিকানদের ভোটব্যাংকে ধাক্কা লাগতে পারে। অন্যদিকে টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এই সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, এটি আমেরিকানদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।
এছাড়া ম্যাট গেইটজ ও কিছু প্রভাবশালী রক্ষণশীল কণ্ঠ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, যা দলের ভেতরের মতভেদ আরও স্পষ্ট করছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, কিন্তু চাপ বাড়ছে
যদিও রক্ষণশীলদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখনও শক্তিশালী, তবুও সামগ্রিকভাবে তার অনুমোদন কমেছে। যুদ্ধের পাশাপাশি চাকরি, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও বড় ইস্যু হয়ে উঠছে।
তার গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নীতিগুলোর কিছু কংগ্রেসে আটকে আছে, আর রিপাবলিকানদের কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল।

টেক্সাসে অভ্যন্তরীণ লড়াই আরও তীব্র
এই সম্মেলনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো টেক্সাসের সিনেট প্রাইমারি নিয়ে উত্তেজনা। অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এবং সিনেটর জন কর্নিন-এর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলীয় বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্প নিজেও এই প্রতিযোগিতা দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব দলকে দুর্বল করে দিতে পারে।
সামনে নির্বাচন, বাড়ছে অনিশ্চয়তা
ইরান যুদ্ধ নিয়ে এই বিভক্তি আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্পের মূল সমর্থকরা এখনও তার পাশে আছেন, তবুও দলের অভ্যন্তরীণ বার্তা ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















