মার্কিন বাহিনীর নাটকীয় অভিযানে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আবারও নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির হয়েছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই শুনানি ছিল তার গ্রেপ্তারের পর দ্বিতীয় আদালত উপস্থিতি।
আদালতে মাদুরোর উপস্থিতি
প্রায় এক ঘণ্টার শুনানিতে মাদুরোকে শান্ত ও স্বাভাবিক দেখায়। ধূসর কারাবন্দি পোশাক, চশমা এবং অনুবাদের জন্য হেডসেট পরে তিনি পুরো সময় নোট নেন এবং মাঝে মাঝে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আদালতে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি।
বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন ইঙ্গিত দেন, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস নিজেদের আইনি খরচ বহন করতে না পারলেও মামলা বাতিল করা হবে না।

অভিযোগ ও আইনি লড়াই
৬৩ বছর বয়সী মাদুরো নিজেকে “যুদ্ধবন্দি” দাবি করেছেন এবং চারটি গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক-সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির পরিকল্পনা এবং ভারী অস্ত্র রাখার অভিযোগ।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলা সরকার তাদের আইনি খরচ বহন করতে পারছে না, আর ব্যক্তিগত অর্থও পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করেছেন তারা।
নাটকীয় গ্রেপ্তার অভিযান
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে কারাকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন কমান্ডো বাহিনী। বিমান হামলা ও নৌবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে অন্তত ৮৩ জন নিহত এবং ১১২ জনের বেশি আহত হয় বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা।
এই অভিযানের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি ব্যাপকভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রভাবের অধীনে চলে যায়।

কারাগারে মাদুরোর অবস্থা
মাদুরো বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার-এ আটক রয়েছেন, যেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ রয়েছে।
তাকে একক কক্ষে রাখা হয়েছে এবং ইন্টারনেট বা সংবাদপত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই। তিনি বাইবেল পড়েন এবং সহবন্দিদের কেউ কেউ তাকে এখনও “প্রেসিডেন্ট” বলে সম্বোধন করেন। পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে সীমিত সময়ের ফোনে যোগাযোগের অনুমতি রয়েছে।
আদালতের বাইরে উত্তেজনা
শুনানির সময় আদালতের বাইরে মাদুরোর সমর্থক ও বিরোধীদের সমাবেশ দেখা যায়। কেউ কেউ তাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখানো বড় পুতুল নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে সমর্থক-বিরোধীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
কারাকাসে প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস-এও শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে। মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখেন, তবে তার বাবাকে “অপহরণ” করা হয়েছে—এটি মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
:max_bytes(150000):strip_icc():focal(1093x258:1095x260)/Nicolas-Maduro-Guerra-speech-1626-aff36775277d4ad2b0e2c5bf33818bf2.jpg)
নতুন নেতৃত্ব ও নীতিগত পরিবর্তন
বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে রয়েছেন ডেলসি রদ্রিগেজ, যিনি আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে তিনি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন এবং তেল ও খনিজ খাতে নতুন নীতি গ্রহণ করেছেন।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটিকে পুনর্গঠনের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















