০৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি সংকট, এশিয়াজুড়ে মূল্যঝড় ও সরবরাহ বিপর্যয় ইরানের হামলায় রিয়াদ ও কুয়েতে আঘাত, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র নেটফ্লিক্সে রহস্যের ঝড়: আগাথা ক্রিস্টি থেকে নর্ডিক অন্ধকার—নতুন সিরিজে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা রুপির পতনে বাজারে চাপ, প্রবাসী আয় বাড়ার ইঙ্গিত—ভারতের অর্থনীতিতে কী বার্তা? মার্কিন শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান, হরমুজ প্রণালি উত্তেজনা বাড়ছে মার্কিন ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরান যুদ্ধের ইতি? নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইউরেনিয়াম ত্যাগের শর্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ‘একপেশে’, পাল্টা হুঁশিয়ারিতে উত্তেজনা আরও তীব্র যুদ্ধের ছায়ায় জ্বালানি সংকট, দূর দেশ থেকে গ্যাস আনছে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘প্রবল অবিশ্বাসে’র কারণেই কি আলোচনা প্রত্যাখ্যান করছে ইরান? বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রিটোরিয়ায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন

আবাসন বিল ঘিরে উত্তেজনা: এলিজাবেথ ওয়ারেন–এর প্রস্তাবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট নিরসনে নতুন আইন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিনেটে পাস হওয়া একটি বড় আবাসন বিল এখন প্রতিনিধি পরিষদে অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। এর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের যুক্ত করা একটি শর্ত, যা আবাসন সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

সরবরাহ বাড়ানোর বদলে বাধা?

আবাসনের দাম কমাতে হলে বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি বাড়ি সাত বছরের মধ্যে বিক্রি করতে হবে—এমন শর্ত যুক্ত হওয়ায় নির্মাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই সীমাবদ্ধতার ফলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সময় কমে যাবে, ফলে অনেক নির্মাতা নতুন প্রকল্পে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে করে বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়ার বদলে উল্টো কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

Limits on build-for-rent homes in housing bill draws industry pushback

ভাড়াটিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

এই নিয়ম কার্যকর হলে যেসব পরিবার ভাড়ায় বসবাস করছে, তাদের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় শেষে বাড়ি বিক্রি হলে তারা বাধ্য হয়ে বাসা ছাড়তে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সমালোচনার মুখে ওয়ারেনের অবস্থান

সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ এই প্রস্তাবকে ভাড়া আবাসন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটি খসড়া তৈরির ভুল, কিন্তু পরে জানা যায় এটি পরিকল্পিতভাবেই যুক্ত করা হয়েছে।

ওয়ারেনের যুক্তি হলো, বাড়ি পরিবারগুলোর জন্য হওয়া উচিত, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ভাড়াটিয়াদেরই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো বিবেচনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের 'যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা হয়েছে' মন্তব্যের পর কমল তেলের দাম | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে মিল

এই প্রস্তাবের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর একটি অবস্থানের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে একক পরিবারের বাড়ি থাকা বন্ধ করার যে উদ্যোগ, তার সঙ্গে এই সীমা নির্ধারণের বিষয়টি জড়িত।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আবাসনের দাম কমবে না, বরং বিকল্প কমে যাবে।

কংগ্রেসে অচলাবস্থা

সিনেটে বড় ব্যবধানে বিলটি পাস হলেও প্রতিনিধি পরিষদে ভিন্ন চিত্র। সেখানে আগে থেকেই একটি আলাদা দ্বিদলীয় বিল পাস হয়েছে। কিন্তু ওয়ারেন ও টিম স্কট উভয় পক্ষের সেরা প্রস্তাব একত্র করার আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে—প্রতিনিধি পরিষদকে সিনেটের বিল মেনে নিতে হবে, না হলে পুরো আইনই আটকে যাবে।

Elizabeth Warren Introduces Plan to Expand Affordable Housing and Dismantle  Racist Zoning Practices

রাজনৈতিক কৌশল না ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত?

ওয়ারেন নাকি আবাসন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকেও প্রকাশ্যে আপত্তি তুলতে নিরুৎসাহিত করছেন। তার আশঙ্কা, আলোচনায় গেলে কিছু প্রগতিশীল ধারা বাদ পড়তে পারে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের প্রশ্ন—যখন তাদের হাতে কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউস, তখন কেন তারা এই চাপ মেনে নেবে?

 

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি সংকট, এশিয়াজুড়ে মূল্যঝড় ও সরবরাহ বিপর্যয়

আবাসন বিল ঘিরে উত্তেজনা: এলিজাবেথ ওয়ারেন–এর প্রস্তাবে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

০৩:৩৬:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন সংকট নিরসনে নতুন আইন নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিনেটে পাস হওয়া একটি বড় আবাসন বিল এখন প্রতিনিধি পরিষদে অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। এর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের যুক্ত করা একটি শর্ত, যা আবাসন সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।

সরবরাহ বাড়ানোর বদলে বাধা?

আবাসনের দাম কমাতে হলে বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করা হয়। কিন্তু নতুন প্রস্তাবে ভাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি বাড়ি সাত বছরের মধ্যে বিক্রি করতে হবে—এমন শর্ত যুক্ত হওয়ায় নির্মাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই সীমাবদ্ধতার ফলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সময় কমে যাবে, ফলে অনেক নির্মাতা নতুন প্রকল্পে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে করে বাজারে বাড়ির সংখ্যা বাড়ার বদলে উল্টো কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

Limits on build-for-rent homes in housing bill draws industry pushback

ভাড়াটিয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

এই নিয়ম কার্যকর হলে যেসব পরিবার ভাড়ায় বসবাস করছে, তাদের জন্য বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট সময় শেষে বাড়ি বিক্রি হলে তারা বাধ্য হয়ে বাসা ছাড়তে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্থায়ী আবাসন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

সমালোচনার মুখে ওয়ারেনের অবস্থান

সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ এই প্রস্তাবকে ভাড়া আবাসন নির্মাতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন এটি খসড়া তৈরির ভুল, কিন্তু পরে জানা যায় এটি পরিকল্পিতভাবেই যুক্ত করা হয়েছে।

ওয়ারেনের যুক্তি হলো, বাড়ি পরিবারগুলোর জন্য হওয়া উচিত, বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়। তবে সমালোচকদের মতে, এতে ভাড়াটিয়াদেরই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো বিবেচনা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের 'যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা হয়েছে' মন্তব্যের পর কমল তেলের দাম | দৈনিক  নয়া দিগন্ত

ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে মিল

এই প্রস্তাবের পেছনে ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর একটি অবস্থানের প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে। বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে একক পরিবারের বাড়ি থাকা বন্ধ করার যে উদ্যোগ, তার সঙ্গে এই সীমা নির্ধারণের বিষয়টি জড়িত।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে আবাসনের দাম কমবে না, বরং বিকল্প কমে যাবে।

কংগ্রেসে অচলাবস্থা

সিনেটে বড় ব্যবধানে বিলটি পাস হলেও প্রতিনিধি পরিষদে ভিন্ন চিত্র। সেখানে আগে থেকেই একটি আলাদা দ্বিদলীয় বিল পাস হয়েছে। কিন্তু ওয়ারেন ও টিম স্কট উভয় পক্ষের সেরা প্রস্তাব একত্র করার আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে—প্রতিনিধি পরিষদকে সিনেটের বিল মেনে নিতে হবে, না হলে পুরো আইনই আটকে যাবে।

Elizabeth Warren Introduces Plan to Expand Affordable Housing and Dismantle  Racist Zoning Practices

রাজনৈতিক কৌশল না ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত?

ওয়ারেন নাকি আবাসন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকেও প্রকাশ্যে আপত্তি তুলতে নিরুৎসাহিত করছেন। তার আশঙ্কা, আলোচনায় গেলে কিছু প্রগতিশীল ধারা বাদ পড়তে পারে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের প্রশ্ন—যখন তাদের হাতে কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউস, তখন কেন তারা এই চাপ মেনে নেবে?