জাপানে বসন্তের আগমনে চেরি গাছগুলো ফুলে ভরে উঠেছে, যা ঐতিহ্যবাহী ‘হানামি’ পিকনিকের সূচনা করে। এই উৎসবে সাধারণত পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে খাবার, আনন্দ আর উৎসবমুখর পরিবেশে সময় কাটানো হয়।
তবে এ বছর সেই আনন্দ কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে। স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং অনিশ্চিত আবহাওয়ার কারণে মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হলেও এবার অংশগ্রহণে সতর্কতা দেখা যাচ্ছে।
অংশগ্রহণ কমার প্রবণতা
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনটেজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৩৮ শতাংশ জাপানি এ বছর পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে চেরি ফুল দেখার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এটি গত বছরের তুলনায় ২.১ শতাংশ কম।

খরচ কমানোর প্রবণতা
জরিপে অংশ নেওয়া ২,৫০০ জন উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা গড়ে ৬,৩৮৩ ইয়েন (প্রায় ৪০ ডলার) খরচ করার পরিকল্পনা করছেন, যা গত বসন্তের গড় ৭,৪০৭ ইয়েনের তুলনায় কম।
গবেষকদের মতে, সামগ্রিক ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়ায় বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডেও সংযমী মনোভাব দেখা যাচ্ছে, যার প্রতিফলন এই খরচ কমানোর প্রবণতায় স্পষ্ট।

সার্বিক ব্যয়ে বড় পতন
তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চেরি ফুল উৎসব ঘিরে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৩৪.১ বিলিয়ন ইয়েন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এটি আগের বছরের মোট ব্যয়ের মাত্র ৮১.৫ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিক চাপ এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির কারণে জাপানের ঐতিহ্যবাহী এই বসন্ত উৎসবের উচ্ছ্বাস এ বছর কিছুটা কমে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















