মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের পর এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় ক্রমেই এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, এই সংঘাত থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে মস্কো।
জ্বালানি দামের উল্লম্ফন ও রাশিয়ার লাভ
সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি দামের বড় ধরনের বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেল ও গ্যাস সরবরাহকারীদের উদ্দেশে বলেন, এই পরিস্থিতিতে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়ায় রাশিয়ার অর্থনীতি স্বল্পমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে এবং দেশটির রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন ও ইউরোপের অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার কিছু তেল ও গ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রায় এক মাসের জন্য শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেন, যা দুই নেতার ফোনালাপের পর নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনও বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার তেল আমদানির ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনাগুলো মিলিয়ে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপের চেয়ে আমেরিকা অঞ্চলের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে রাশিয়ার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

‘সবচেয়ে বড় বিজয়ী’ হওয়ার ধারণা
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা পর্যন্ত মন্তব্য করেছেন, এই সংঘাতে রাশিয়া হয়তো সবচেয়ে বড়—এমনকি একমাত্র—বিজয়ী হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই মূল্যায়ন অতিরঞ্জিত হতে পারে।

বাস্তব সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যা মস্কোর পূর্ণ সুবিধা নেওয়ার ক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।
শাংহাইয়ের ইস্ট চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির রাশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের উপপরিচালক ঝাং শিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্বল্পমেয়াদে রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।
তিনি আরও বলেন, তেলের দাম বাড়ার ফলে রাশিয়ার আর্থিক সুবিধা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইউক্রেনে পাঠানোর কিছু সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যের দিকে সরিয়ে নিতে পারে, যা পরোক্ষভাবে রাশিয়ার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত রাশিয়ার জন্য স্বল্পমেয়াদে সুযোগ তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে কতটা লাভবান হবে, তা নির্ভর করছে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, বৈশ্বিক রাজনীতি এবং রাশিয়ার নিজস্ব অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















