সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
পতাকা উত্তোলন ও শ্রদ্ধা নিবেদন
দিবসের কর্মসূচি শুরু হয় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এ সময় রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনও স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
আলোচনা সভা ও বাণী পাঠ
দিবসটি উপলক্ষ্যে দূতাবাসের মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
পরে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দেন রিয়াদে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য মামুনুর রশিদ এবং ডা. গোলাম হাসনাইন সোহান।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ও আহ্বান
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত মোঃ দেলওয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জনে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে। তিনি সবাইকে স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে বিদেশে বাংলাদেশের মর্যাদা উজ্জ্বল করা এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে স্থানীয় আইন-কানুন মেনে চলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
দোয়া মাহফিল
অনুষ্ঠানের শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















