অযোধ্যার রাম মন্দির ট্রাস্টের অনুদান তহবিল নিয়ে নতুন বিতর্কে সরব হয়েছে কংগ্রেস। দলটির উত্তর প্রদেশ শাখার নেতারা অভিযোগ করেছেন, মন্দিরে আসা বিপুল পরিমাণ অনুদানের হিসাব নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবং এ ঘটনায় উচ্চ আদালতের বর্তমান বিচারকের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
দলটির দাবি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তির সুযোগ নিয়ে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল কার্যকর ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
অনুদানের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন এবং অনুদান ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। তাদের দাবি, বিষয়টি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সুসংগঠিতভাবে আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

দলটির নেতারা বলেন, মন্দির নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচির নামে অতীতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো জনসমক্ষে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অনুদানের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশেষ তদন্ত দল নিয়ে আপত্তি
কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার যে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, তা মূলত আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার উদ্যোগ মাত্র। তাদের মতে, তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
দলটির বক্তব্য, যদি সত্যিই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয়, তাহলে উচ্চ আদালতের দায়িত্বে থাকা কোনো বিচারকের তত্ত্বাবধানে সময়বদ্ধ তদন্ত করতে হবে। এতে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
লিখিত অভিযোগ জমা
এদিকে রাম মন্দির আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকার দাবি করা এক কর্মী অযোধ্যার রাম জন্মভূমি থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে ট্রাস্টের কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্দিরের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অর্থের একটি অংশ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও জনস্বার্থের ইস্যুতে পরিণত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে
রাম মন্দির ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়। তাই অনুদান সংক্রান্ত এই অভিযোগ নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালোভাবে তোলা হলেও, অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল এবং উদ্বেগ বাড়ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















