পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে। নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দাবি করা রিতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, তাঁর পক্ষে সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা এখন ৬৫-এ পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে সরাসরি ফ্লোর টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর রিতব্রত বলেন, তিনি তৃণমূল বিধায়ক দলের নেতা এবং এ বিষয়ে কারও কোনো সংশয় থাকলে তা পরিষ্কার করতে ফ্লোর টেস্টই যথেষ্ট। তাঁর মতে, বিধানসভায় ভোটাভুটি হলে চলমান সব বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের অবসান ঘটবে।
সমর্থন বাড়ার দাবি
রিতব্রতের দাবি, তাঁর প্রতি সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে এবং বর্তমানে ৬৫ জন বিধায়ক তাঁর পাশে রয়েছেন। গত ৩ জুন দল থেকে বহিষ্কারের পর তাঁকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন তাঁর পক্ষে ৮০ জনের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন ছিল বলে জানানো হয়েছিল।
এরপর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। রিতব্রত শিবিরের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের পক্ষেই রয়েছে।
বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠক ঘিরে বিতর্ক
মঙ্গলবারের বৈঠককে ঘিরেও নতুন বিতর্ক দেখা দেয়। তৃণমূলের চেয়ারপারসনের অনুগত বলে পরিচিত কয়েকজন বিধায়ককে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বৈঠকে অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক।
এ ঘটনায় বিধানসভার ভেতরে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব প্রশ্নে বিভক্তির চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
আদালতের প্রশ্ন স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে
এদিকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রিতব্রতের স্বীকৃতি নিয়ে করা একটি মামলার শুনানিতে আদালতও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। শুনানিতে জানতে চাওয়া হয়, একই দলের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক প্রস্তাব থাকলে স্পিকার কীভাবে একতরফাভাবে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন।

আদালতে বলা হয়, একদিকে অধিক সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন দাবি করে একটি প্রস্তাব জমা পড়েছিল, অন্যদিকে পরে আরেকটি প্রস্তাব আসে। এমন পরিস্থিতিতে কোনটি গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্পিকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
অন্যদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদল বিধায়ক সরাসরি বিধানসভায় উপস্থিত হয়ে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দাবি করেন এবং নিজেদের নেতা ও হুইপ নির্বাচন করেছেন বলে জানান।
বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই এখনো অব্যাহত রয়েছে। আগামী শুনানিতে এ বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















