পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত আবারও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অস্থায়ী বিরতির পর পাকিস্তান পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। দুই দেশের সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফের অভিযান
ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্চের তেইশ ও চব্বিশ তারিখের মধ্যরাতেই যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়েছে। এরপরই আবার সামরিক অভিযান শুরু হয়। পাকিস্তানের দাবি, তাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা। তারা বলছে, আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপে সমর্থন দিচ্ছে।

কাবুলের পাল্টা অভিযোগ
অন্যদিকে কাবুলের অভিযোগ, পাকিস্তানের হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক হামলায় রাজধানীতে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সীমান্তে উত্তেজনা ও বাণিজ্য স্থবির
দুই দেশের মধ্যে প্রধান সীমান্তগুলোতে বাণিজ্য কার্যক্রম অনেকদিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিমান হামলার পর এই অচলাবস্থা আরও তীব্র হয়েছে। এর ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শরণার্থী সংকট আরও ঘনীভূত
সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত দিয়ে আফগান শরণার্থীদের ফেরত যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কিছু সীমান্ত অস্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। নিরাপত্তাহীনতা ও সংঘর্ষের ভয়ে হাজারো মানুষ ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে।
নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কা
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুই বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দূরবর্তী অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















