জাপানে রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভিসার নির্ধারিত সীমা পূরণের মুখে পৌঁছানোর কারণে আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে নতুন করে বিদেশি কর্মী আর নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এতে করে খাদ্যসেবা খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা আরও গভীর হয়েছে।
হঠাৎ সিদ্ধান্তে বিপাকে ব্যবসায়ীরা
সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনেকটা হঠাৎ করেই এসেছে বলে অভিযোগ করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বড় রেস্তোরাঁ চেইনের এক ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতিতে তাদের বর্তমান নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও। বিশেষ করে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নির্ধারিত সীমা ছুঁইছুঁই
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দক্ষ কর্মী ভিসায় জাপানে কর্মরত বিদেশির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। খাদ্যসেবা খাতে এই সংখ্যা ইতোমধ্যে প্রায় নির্ধারিত সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফেব্রুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, এই খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজারে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করার পথে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এপ্রিলের ১৩ তারিখের পর থেকে জমা পড়া নতুন আবেদন বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি ওই সময়ের আগে জমা পড়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও দীর্ঘ বিলম্ব হতে পারে, কারণ আগে থেকেই জাপানে থাকা বিদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতের আশঙ্কা
এর আগে অন্য খাতে সীমা পূরণ হলে সাময়িকভাবে নিয়োগ বন্ধ করে পরে আবার চালু করা হয়েছিল। তবে এবার খাদ্যসেবা খাতে এই স্থগিতাদেশ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বড় চাপ
খাদ্যসেবা খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই ছোট আকারের এবং সীমিত মূলধনের ওপর নির্ভরশীল। বাড়তি খরচের চাপের মধ্যে তাদের জন্য স্থানীয় কর্মী নিয়োগে বেতন বাড়ানো সহজ নয়। ফলে বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভরতা বাড়ছিল। গত এক বছরে এই খাতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, যা সামগ্রিক শিল্পের তুলনায় অনেক বেশি।
বিকল্প হিসেবে শিক্ষার্থীদের দিকে ঝোঁক
বর্তমানে খাতটি আংশিকভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করছে, যারা খণ্ডকালীন কাজ করে। তবে সরকার এই ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করার পরিকল্পনা করছে, ফলে ভবিষ্যতে এই উৎস থেকেও শ্রম পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সরকারের অবস্থান
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, রেস্তোরাঁ খাতের উচিত স্থানীয় কর্মীদের আকৃষ্ট করতে কাজের পরিবেশ উন্নত করা। যদিও বাস্তবে তা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















