মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যখন ইয়েমেনের ইরানঘনিষ্ঠ হুথি গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন শুরু করায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট, হুথিদের সরাসরি হামলা
চলমান সংঘাতের মধ্যে হুথিদের এই হামলা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে। গোষ্ঠীটি জানিয়ে দিয়েছে, যতদিন পর্যন্ত তারা যাকে ‘আগ্রাসন’ বলছে তা বন্ধ না হবে, ততদিন তাদের অভিযান চলবে। ইসরায়েল নিশ্চিত করেছে যে ইয়েমেন থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যদিও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মোতায়েন, কৌশলগত প্রস্তুতি
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুততার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মেরিন সেনা পাঠাচ্ছে। ইতোমধ্যে হাজার হাজার সেনা পৌঁছাতে শুরু করেছে এবং আরও বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনৈতিক নেতৃত্ব বলছে, স্থলযুদ্ধে না গিয়েও লক্ষ্য অর্জন সম্ভব, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল বদলের সুযোগ রাখতে এই মোতায়েন।

ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলা
ইসরায়েল রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে লেবাননেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানছে, যার মধ্যে সৌদি আরবের একটি ঘাঁটিতে হামলা এবং মার্কিন সেনাদের আহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে চাপ
এই সংঘাতের প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কূটনৈতিক উদ্যোগেও অচলাবস্থা
বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা কমাতে উদ্যোগ নিলেও এখনো কোনো বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যায়নি। আঞ্চলিক শক্তিগুলো বার্তা আদান-প্রদান করলেও সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সমুদ্রপথে নতুন হুমকি
হুথিদের হামলার ফলে লোহিত সাগর ও আরব উপদ্বীপ ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালি নতুন সংঘর্ষের কেন্দ্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















