০৫:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
বঙ্গের ধাঁধা — সামাজিক অগ্রগতি কেন উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত হয়নি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপে মধ্যস্থতার উদ্যোগে পাকিস্তান, চীনের সমর্থন চাইতে বেইজিং সফরে ইসহাক দার ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় ভারত কেন কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বেছে নেয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের নেতৃত্বে বাঘের গালিবাফ, কে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ নিয়ে নিতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প জাপানে নাগরিকত্ব পেতে এখন ১০ বছর বসবাস বাধ্যতামূলক, কর নথিতেও কঠোরতা রেস্তোরাঁ খাতে বিদেশি কর্মী বন্ধে জাপানের সিদ্ধান্তে আতঙ্ক, শ্রম সংকটে টালমাটাল খাদ্যসেবা শিল্প মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়াচ্ছে, ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে হামলা, মার্কিন সেনা মোতায়েন জোরদার উত্তর কোরিয়ার ‘চিরশত্রু’ তত্ত্বে নতুন উত্তেজনা, বাস্তবতায় কতটা টিকবে কিমের কৌশল?

উত্তর কোরিয়ার ‘চিরশত্রু’ তত্ত্বে নতুন উত্তেজনা, বাস্তবতায় কতটা টিকবে কিমের কৌশল?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘চিরশত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বাস্তবতা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি কিমের জন্যই উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

কঠোর অবস্থান, বন্ধ সব পথ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সিউলের সঙ্গে কোনো ধরনের পুনর্মিলন বা সহযোগিতার পথ তিনি খোলা রাখতে চান না। এই অবস্থান প্রথম প্রকাশ পায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে, যা এখন আরও কঠোর রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করার কৌশল বাস্তবসম্মত নয়। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের মধ্যে কোনো না কোনো যোগাযোগ অবশ্যম্ভাবী।

South Korea 'most hostile' enemy of North Korea: Pyongyang

রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন

দক্ষিণ কোরিয়ায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট তুলনামূলকভাবে সমঝোতামূলক অবস্থান নিয়েছেন এবং উত্তরের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। সীমান্তে প্রচার বন্ধ করা থেকে শুরু করে উত্তেজনা কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়া এসব উদ্যোগে সাড়া দিচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অর্থনীতি ও কৌশলে ঝুঁকি

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হলে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারত। কিন্তু কিমের বর্তমান নীতি সেই সম্ভাবনাকে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দেশটি ক্রমেই সীমিত আয়ের উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

রাশিয়া ও চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ালেও, এই দুই দেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে কিমের কৌশল আন্তর্জাতিক ভারসাম্যেও চাপ তৈরি করছে।

North Korea's Kim shuns South but could get along with US

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব

এই নীতিগত পরিবর্তন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরেও প্রশ্ন তুলছে। কিমের পূর্বসূরিরা যেখানে পুনর্মিলনের কথা বলতেন, সেখানে বর্তমান অবস্থান সেই ঐতিহ্যের বিরোধী। ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে, দেশের মানুষ জানে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন অনেক বেশি। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কিম জং উনকে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হতে পারে। তবে তখন পরিস্থিতি তার জন্য অনুকূল নাও থাকতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গের ধাঁধা — সামাজিক অগ্রগতি কেন উচ্চ আয়ে রূপান্তরিত হয়নি

উত্তর কোরিয়ার ‘চিরশত্রু’ তত্ত্বে নতুন উত্তেজনা, বাস্তবতায় কতটা টিকবে কিমের কৌশল?

০৩:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সাম্প্রতিক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘চিরশত্রু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনার আবহ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান বাস্তবতা থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি কিমের জন্যই উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।

কঠোর অবস্থান, বন্ধ সব পথ

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে কিম জং উন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, সিউলের সঙ্গে কোনো ধরনের পুনর্মিলন বা সহযোগিতার পথ তিনি খোলা রাখতে চান না। এই অবস্থান প্রথম প্রকাশ পায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে, যা এখন আরও কঠোর রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করার কৌশল বাস্তবসম্মত নয়। ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই দেশের মধ্যে কোনো না কোনো যোগাযোগ অবশ্যম্ভাবী।

South Korea 'most hostile' enemy of North Korea: Pyongyang

রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন

দক্ষিণ কোরিয়ায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট তুলনামূলকভাবে সমঝোতামূলক অবস্থান নিয়েছেন এবং উত্তরের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। সীমান্তে প্রচার বন্ধ করা থেকে শুরু করে উত্তেজনা কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু উত্তর কোরিয়া এসব উদ্যোগে সাড়া দিচ্ছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অর্থনীতি ও কৌশলে ঝুঁকি

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হলে উত্তর কোরিয়া অর্থনৈতিক সুবিধা পেতে পারত। কিন্তু কিমের বর্তমান নীতি সেই সম্ভাবনাকে বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দেশটি ক্রমেই সীমিত আয়ের উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।

রাশিয়া ও চীনের ওপর নির্ভরতা বাড়ালেও, এই দুই দেশের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে কিমের কৌশল আন্তর্জাতিক ভারসাম্যেও চাপ তৈরি করছে।

North Korea's Kim shuns South but could get along with US

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব

এই নীতিগত পরিবর্তন উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরেও প্রশ্ন তুলছে। কিমের পূর্বসূরিরা যেখানে পুনর্মিলনের কথা বলতেন, সেখানে বর্তমান অবস্থান সেই ঐতিহ্যের বিরোধী। ফলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে, দেশের মানুষ জানে দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন অনেক বেশি। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা দীর্ঘদিন ধরে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কিম জং উনকে আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতে হতে পারে। তবে তখন পরিস্থিতি তার জন্য অনুকূল নাও থাকতে পারে।