আর্থিক জরুরি অবস্থার দ্বারপ্রান্তে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশ একটি মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছে। লায়ন সিটি অ্যাডভাইজরি রিসার্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে দেশটির মাসিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় ইতিমধ্যে সাতশো ষাট থেকে আটশো ত্রিশ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে। জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্সের পৃথক বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান উচ্চ জ্বালানি মূল্য বছরজুড়ে অব্যাহত থাকলে বার্ষিক জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি ব্যয় ২০২৫ সালের তুলনায় চল্লিশ শতাংশ বেড়ে চার দশমিক আট বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পাবে — যা ২০২৪ সালের দেশজ উৎপাদনের এক দশমিক এক শতাংশের সমান। বাংলাদেশ সৌদি আরামকো ও আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বার্ষিক প্রায় চোদ্দ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করে — সবই হরমুজ হয়ে আসে। মার্চ মাসে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন নিশ্চিত করেছে যে নির্ধারিত ডিজেল আমদানির প্রায় ষাট হাজার মেট্রিক টন স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি স্পট বাজারে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম একশো পঁচিশ শতাংশ লাফিয়ে উঠেছে।

রেমিট্যান্স ঝুঁকি ও রপ্তানি খাতের চাপ
বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু জ্বালানিতে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বার্ষিক ত্রিশ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সের প্রায় অর্ধেকই আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সতর্ক করেছে যে দীর্ঘায়িত সংঘাত ২০২৬-২৭ সালে উন্নয়নশীল এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এক দশমিক তিন শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি তিন দশমিক দুই শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ঈদের মৌসুমী প্রেরণ কিছুটা বাফার দিয়েছিল, তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন এই সহনশীলতাকে প্রতিরোধ ক্ষমতা মনে করা উচিত নয়। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত, যা দেশের মোট রপ্তানির আশি শতাংশ, উপসাগরীয় আকাশপথ বন্ধ থাকা, বর্ধিত মালভাড়া ও কার্গো বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী বিশ্লেষকরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি মূল্যের ধাক্কা সামলাতে ব্যয় হওয়া বিলিয়ন ডলার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের একটি মিস-সুযোগ, যা ভবিষ্যৎ সংকট থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















