০৯:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই সব আসনে ‘আমি-ই প্রার্থী’ বার্তা মমতার, ভোটের আগে আবেগঘন প্রচার তৃণমূলের সাত মাসে ব্যাংক থেকে ৭৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: কম খরচে বদলে যাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের কৌশল

طائرات مسيرة فوق خريطة فلسطين وقطاع غزة

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এখন কম খরচের ড্রোনই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ—সবখানেই ড্রোনের ব্যবহার দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের অর্থনীতি এখন নতুন পথে এগোচ্ছে।

উচ্চমূল্যের অস্ত্র বনাম সস্তা ড্রোন
গালফ অঞ্চলের দেশগুলো বহু বছর ধরে উন্নত যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে খুব কম খরচে তৈরি ড্রোন সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একটি ড্রোন তৈরিতে যেখানে কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে একটি যুদ্ধবিমান চালু রাখতে প্রতি ঘণ্টায়ই খরচ হয় কয়েকগুণ বেশি।

এই বৈষম্য যুদ্ধের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। একটি ড্রোন ধ্বংস হলে ক্ষতি সীমিত, কিন্তু একটি যুদ্ধবিমান হারালে তা আর্থিক ও মানবসম্পদের বড় ক্ষতি ডেকে আনে।

আকাশে প্রতিরোধ, তবু চাপ বাড়ছে
যুদ্ধবিমান দিয়ে ড্রোন ঠেকানো সম্ভব হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। হাজার হাজার ড্রোন ঠেকাতে বিমান ও পাইলটদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে এই লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

Drones | Pros, Cons, Debate, Arguments, Controversy, Warfare, Military,  Bombs, Missiles, & War on Terror | Britannica

স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা
ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। যুদ্ধের শুরুতেই শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা পুনরায় পূরণ করতে সময় লাগবে বহু বছর।

নতুন কৌশল: কম খরচের প্রতিরোধ ব্যবস্থা
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ কম খরচের প্রতিরোধ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। শব্দ শনাক্তকারী প্রযুক্তি, ছোট আকারের প্রতিরোধ ড্রোন এবং স্বল্পমূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলো কম খরচে বেশি কার্যকর হওয়ায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল বদলে দিচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ এশিয়াতেও ড্রোন যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ভবিষ্যতের যুদ্ধের রূপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোন কখনও পুরোপুরি যুদ্ধবিমানকে প্রতিস্থাপন করবে না। ভারী অস্ত্র বা বড় আক্রমণে এখনও মানবচালিত বিমানই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ড্রোন ইতিমধ্যেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু শক্তির নয়, খরচের হিসাবেও নির্ধারিত হচ্ছে। কম খরচে বেশি কার্যকর প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের যুদ্ধের নিয়ম তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

ড্রোন যুদ্ধের নতুন বাস্তবতা: কম খরচে বদলে যাচ্ছে আধুনিক যুদ্ধের কৌশল

০৭:৪২:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে এখন কম খরচের ড্রোনই হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ—সবখানেই ড্রোনের ব্যবহার দেখিয়ে দিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের অর্থনীতি এখন নতুন পথে এগোচ্ছে।

উচ্চমূল্যের অস্ত্র বনাম সস্তা ড্রোন
গালফ অঞ্চলের দেশগুলো বহু বছর ধরে উন্নত যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে খুব কম খরচে তৈরি ড্রোন সেই শক্তিশালী ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। একটি ড্রোন তৈরিতে যেখানে কয়েক হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে একটি যুদ্ধবিমান চালু রাখতে প্রতি ঘণ্টায়ই খরচ হয় কয়েকগুণ বেশি।

এই বৈষম্য যুদ্ধের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। একটি ড্রোন ধ্বংস হলে ক্ষতি সীমিত, কিন্তু একটি যুদ্ধবিমান হারালে তা আর্থিক ও মানবসম্পদের বড় ক্ষতি ডেকে আনে।

আকাশে প্রতিরোধ, তবু চাপ বাড়ছে
যুদ্ধবিমান দিয়ে ড্রোন ঠেকানো সম্ভব হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। হাজার হাজার ড্রোন ঠেকাতে বিমান ও পাইলটদের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে দ্রুতগতিতে। ফলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে এই লড়াই চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

Drones | Pros, Cons, Debate, Arguments, Controversy, Warfare, Military,  Bombs, Missiles, & War on Terror | Britannica

স্থলভিত্তিক প্রতিরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা
ড্রোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাগুলোও অত্যন্ত ব্যয়বহুল। একটি প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। যুদ্ধের শুরুতেই শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হওয়ায় মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা পুনরায় পূরণ করতে সময় লাগবে বহু বছর।

নতুন কৌশল: কম খরচের প্রতিরোধ ব্যবস্থা
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ কম খরচের প্রতিরোধ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। শব্দ শনাক্তকারী প্রযুক্তি, ছোট আকারের প্রতিরোধ ড্রোন এবং স্বল্পমূল্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। এগুলো কম খরচে বেশি কার্যকর হওয়ায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল বদলে দিচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তান প্রেক্ষাপট
দক্ষিণ এশিয়াতেও ড্রোন যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি হয়ে উঠেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ভবিষ্যতের যুদ্ধের রূপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোন কখনও পুরোপুরি যুদ্ধবিমানকে প্রতিস্থাপন করবে না। ভারী অস্ত্র বা বড় আক্রমণে এখনও মানবচালিত বিমানই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছোট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে ড্রোন ইতিমধ্যেই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে আধুনিক যুদ্ধ এখন শুধু শক্তির নয়, খরচের হিসাবেও নির্ধারিত হচ্ছে। কম খরচে বেশি কার্যকর প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের যুদ্ধের নিয়ম তৈরি করছে।