বিপুল বিনিয়োগের ঢেউ
আমাজন, গুগল, মেটা ও মাইক্রোসফট শুধু ২০২৬ সালেই প্রায় সাতশো বিলিয়ন ডলার ডেটা সেন্টার নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে — এ পরিমাণ বিনিয়োগ প্রযুক্তি শিল্পের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আমাজন সবচেয়ে এগিয়ে দুইশো বিলিয়ন ডলার মূলধন ব্যয়ের বাজেট নিয়ে, গুগলের পরিকল্পনা একশো পঁচাত্তর থেকে একশো পঁচাশি বিলিয়ন ডলার এবং মেটার বরাদ্দ একশো পনেরো থেকে একশো পঁয়ত্রিশ বিলিয়ন ডলার। এই ব্যয়ের কেন্দ্রে রয়েছে একটি মাত্র অনুমান: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এত বিশাল বিনিয়োগ ন্যায্যতা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আয় তৈরি করবে। মেটা টেক্সাসের এল পাসোতে একটিমাত্র ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাসে দশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে যেখানে এক গিগাওয়াট বিদ্যুৎ সক্ষমতার লক্ষ্য নির্ধারিত। লুইজিয়ানায় “হাইপেরিয়ন” নামের একটি নতুন প্রকল্পে দশ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে পাঁচ গিগাওয়াট কম্পিউট ক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এবং স্থানীয় পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস বলছে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার বার্ষিক ত্রিশ শতাংশ হারে বাড়তে থাকবে।

ওপেন-সোর্স মডেলের উত্থান ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি
এই ব্যয়-প্রতিযোগিতা বাজার কেন্দ্রীভূত হওয়ার উদ্বেগও তুলে ধরছে। আইবিএমের একটি জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী নির্দিষ্ট অঞ্চলে কম্পিউট সম্পদের অতিনির্ভরতা নিয়ে চিন্তিত। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ সংকট এই উদ্বেগকে বাস্তবে পরিণত করেছে — জ্বালানি-নির্ভর ডেটা সেন্টারগুলি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়লে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি ওপেন-সোর্স মডেলের বাজার-চ্যালেঞ্জ প্রসারিত হচ্ছে। মিস্ত্রাল মার্চে ২২ বিলিয়ন প্যারামিটারের Mistral Small 4 মুক্তি দিয়েছে যা অ্যাপাচি ২.০ লাইসেন্সে পাওয়া যাচ্ছে এবং বেঞ্চমার্কে এর তিন থেকে পাঁচ গুণ বড় বন্ধ মডেলগুলিকে পেছনে ফেলেছে। এই মডেলগুলি এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার খরচ-সংবেদনশীল বাজারে তেজী গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। অ্যান্থ্রপিক প্রণীত ও লিনাক্স ফাউন্ডেশনে দান করা মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল বা এমসিপি এআই অ্যাজেন্টগুলিকে ডেটাবেজ ও বাহ্যিক সফটওয়্যারের সঙ্গে সংযুক্ত করার শিল্পমান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ওপেনএআই ও মাইক্রোসফট উভয়ই এটি সমর্থন করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















