বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার
ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রুজের গবেষকরা কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে বাণিজ্যিক তিমি শিকার বন্ধ হওয়ার কয়েক দশক পরেও সেই কর্মকাণ্ডের প্রভাব হাম্পব্যাক তিমির জনগোষ্ঠীতে কীভাবে টিকে আছে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের নিউ ক্যালেডোনিয়ায় প্রায় বিশ বছরের প্রজনন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন যে সংখ্যা পুনরুদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিমি জনগোষ্ঠীর বয়স কাঠামো নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। পুনরুদ্ধারের প্রথম দিকে প্রজনন ক্ষেত্রগুলিতে তরুণ পুরুষ তিমিদের আধিপত্য ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি তিমি বেঁচে থেকে পরিণত বয়সে পৌঁছানোর সুযোগ পাওয়ায় বয়স্ক পুরুষ তিমিরা ক্রমশ বেশি সংখ্যায় বাচ্চার জনক হতে শুরু করেছে। এই গবেষণা বিজ্ঞানীরা “শিফটেড বেসলাইন সিনড্রোম” বলে যা চেনেন তার নতুন উদাহরণ দিচ্ছে। ধারণাটির মূল কথা হলো, বেশিরভাগ আধুনিক তিমি গবেষণা সেই সময়ে পরিচালিত হয়েছে যখন জনগোষ্ঠী এরই মধ্যে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে বিজ্ঞানীরা অস্বাভাবিকভাবে তরুণ পুরুষ তিমিদের পর্যবেক্ষণ করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছিলেন যা সুস্থ, অবিঘ্নিত জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক আচরণ প্রতিফলিত করে না।

গান, প্রতিযোগিতা ও অভিজ্ঞতার শক্তি
পুরুষ হাম্পব্যাক তিমিরা প্রাণিজগতের সবচেয়ে বিস্তৃত কণ্ঠস্বর উৎপাদনের জন্য পরিচিত। তাদের গান প্রজনন ক্ষেত্র জুড়ে বিশাল দূরত্বে পৌঁছায় এবং মেয়ে তিমিদের আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়। পুরুষ তিমিরা মেয়ে তিমিদের সঙ্গ দেয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষদের সঙ্গে তীব্র শারীরিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। সেন্ট অ্যান্ড্রুজের দল দেখেছে যে অভিজ্ঞ বয়স্ক পুরুষ তিমিরা আরও বেশি সংখ্যায় ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে গান, সাহচর্য এবং প্রকৃত পিতৃত্ব — প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা তরুণ প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলেছে। গবেষণাটিতে চামড়ার নমুনা থেকে ডিএনএ এবং এপিজেনেটিক মলিকুলার ক্লক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে যা একটি তিমির জেনেটিক উপাদানের রাসায়নিক নিদর্শন থেকেই বয়স অনুমান করতে পারে। গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ড. এলেন গার্ল্যান্ড জানিয়েছেন যে জনগোষ্ঠীর বয়স কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে একই তালে প্রজনন আচরণ ও সাফল্যও বদলে গেছে। বাণিজ্যিক তিমি শিকারের ক্ষতির সর্বোচ্চ বিন্দুর পর হাম্পব্যাক তিমির সংখ্যা প্রায় দশ হাজার থেকে আজকের আনুমানিক আশি হাজারে উন্নীত হয়েছে। ২৮ মার্চ হাওয়াইয়ান দ্বীপপুঞ্জের তীরে পরিচালিত একটি নাগরিক বিজ্ঞান গণনায় ৩৭টি পর্যবেক্ষণ স্থান থেকে ৪৩৫টি তিমি দেখা গেছে এবং এই মৌসুমে সমুদ্র গণনা অনুষ্ঠানটি তার ত্রিশতম বার্ষিকী উদযাপন করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















