জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত কিউবাকে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে রাশিয়া। দীর্ঘ কয়েক মাস পর একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ দেশটিতে পৌঁছেছে, যা দ্বীপ রাষ্ট্রটির চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে সাময়িক স্বস্তি আনতে পারে।
সংকটের মাঝে তেলের আগমন
রাশিয়ার পাঠানো প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজটি কিউবার উপকূলে পৌঁছেছে। এই চালান এমন এক সময় এলো, যখন দেশটিতে জ্বালানির তীব্র অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। তিন মাসের বেশি সময় ধরে বড় কোনো তেল সরবরাহ না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নীতির পরিবর্তন
কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কিউবা প্রায় পুরোপুরি সংকটে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে কিছুটা নরম সুর দেখা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতির নতুন দিক নির্দেশ করছে।
রাশিয়ার কৌশলগত বার্তা
রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা তাদের মিত্র দেশগুলোর পাশে থাকবে। কিউবার বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও জ্বালানি সহায়তা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে মস্কো।

সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কিউবার মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অনেক জায়গায় মানুষকে ট্যাংকার থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের জন্য ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ঐতিহাসিক নির্ভরতা ও বর্তমান বাস্তবতা
কিউবা দীর্ঘদিন ধরে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। সোভিয়েত যুগ থেকেই এই নির্ভরতা তৈরি হয়, যা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সরাসরি দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তায় আঘাত হানে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















