০২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
সায়েদাবাদে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণীর, ঢাকায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে হাম ফিরে এলো ভয়ংকর রূপে, বাড়ছে শিশু মৃত্যু—জরুরি পদক্ষেপে সরকার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক আরও দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো সারা দেশে হামের অ্যালার্ম: টিকার ঘাটতি, অবহেলা ও পুষ্টিহীনতায় ঝুঁকিতে শিশুরা সাবেক সিএমপি কমিশনার জলিল মন্ডল গ্রেপ্তার, মানবতাবিরোধী অভিযোগে অভিযান দুধের স্রোতে ডুবে ব্রিটেন, লোকসানে খামার—ফেলে দিতে হচ্ছে কোটি লিটার দুধ ব্রিটেনে ভেট শিল্পে ধাক্কা: পোষা প্রাণীর খরচ কমতেই শেষ হচ্ছে সোনালি সময় ইউরোপে জনতাবাদীদের ঘেরাও ভাঙছে, নতুন বাস্তবতায় রাজনীতির পালাবদল ড্রোন যুদ্ধের নতুন কৌশল: ইউক্রেনের আকাশযুদ্ধে বদলে যাচ্ছে শক্তির সমীকরণ মেলোনির ধাক্কা: গণভোটে ‘না’, ইতালিতে বাড়ছে সরকারের প্রতি অসন্তোষ

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধে বিপাকে এশিয়া, প্রতিশ্রুতি থাকলেও সহযোগিতা অনিশ্চিত

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন জ্বালানি ও সার সংকটে দিশেহারা, তখন প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চীন নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যত রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে মিলছে না প্রয়োজনীয় সহায়তা।

সংকটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তীব্র চাপে পড়েছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশ চীনের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে অন্তত সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।

From Belt and Road to belt tightening: China's neighbours get cold shoulder  on energy | Reuters

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

চীন সম্প্রতি আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা বললেও বাস্তবে তাদের অবস্থান অনেকটাই নীরব ও অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন নিজস্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী।

চীনের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মজুত বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। সেই কৌশলের ফলেই এখন তারা নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিকল্প খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো

চীনের এই অবস্থানের ফলে অনেক দেশ এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা বাড়ছে। তবে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়, ফলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন হয়তো কিছু প্রতীকী সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু বড় পরিসরে জ্বালানি বা খাদ্য মজুত ভাগ করে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

Southeast Asia Fuel Struggles as China Bans Energy Export

কৌশলগত হিসাব-নিকাশ

চীনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। দেশটি চায় না এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে, যা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হবে। তাই তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে রপ্তানি পুনরায় চালুর পথ বেছে নিতে পারে।

একই সঙ্গে এই সংকট অন্য দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে চীন ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই এখন বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সায়েদাবাদে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল তরুণীর, ঢাকায় আবারও সড়ক নিরাপত্তা প্রশ্নে

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধে বিপাকে এশিয়া, প্রতিশ্রুতি থাকলেও সহযোগিতা অনিশ্চিত

১২:১৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন জ্বালানি ও সার সংকটে দিশেহারা, তখন প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চীন নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যত রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে মিলছে না প্রয়োজনীয় সহায়তা।

সংকটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তীব্র চাপে পড়েছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশ চীনের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে অন্তত সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।

From Belt and Road to belt tightening: China's neighbours get cold shoulder  on energy | Reuters

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

চীন সম্প্রতি আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা বললেও বাস্তবে তাদের অবস্থান অনেকটাই নীরব ও অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন নিজস্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী।

চীনের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মজুত বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। সেই কৌশলের ফলেই এখন তারা নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিকল্প খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো

চীনের এই অবস্থানের ফলে অনেক দেশ এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা বাড়ছে। তবে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়, ফলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন হয়তো কিছু প্রতীকী সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু বড় পরিসরে জ্বালানি বা খাদ্য মজুত ভাগ করে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

Southeast Asia Fuel Struggles as China Bans Energy Export

কৌশলগত হিসাব-নিকাশ

চীনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। দেশটি চায় না এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে, যা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হবে। তাই তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে রপ্তানি পুনরায় চালুর পথ বেছে নিতে পারে।

একই সঙ্গে এই সংকট অন্য দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে চীন ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই এখন বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।