১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
নতুন শ্রবণ পরীক্ষা বুথে অপেক্ষার সময় অর্ধেক, দ্রুত সেবা পাচ্ছেন রোগীরা সিঙ্গাপুরে দুই মসজিদের সাবেক চেয়ারম্যানের কারাদণ্ড, ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির প্রমাণ এয়ারএশিয়ার বড় সিদ্ধান্ত: ১ জুলাই থেকে বন্ধ সিঙ্গাপুর-জাকার্তা সরাসরি ফ্লাইট, বাড়বে যাত্রার সময় স্থানীয় নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে বহু কৌশল বিএনপির নেশার বিরুদ্ধে বড় অভিযান: ৬৮০ মিলিয়ন ডলারের মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করল মিয়ানমার পেন্টাগনের নতুন নীতি: যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্য নির্ধারণে বাড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা ন্যাটোকে নতুন চ্যালেঞ্জে ফেলছে আর্কটিক: রাশিয়ার অগ্রযাত্রা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির তাগিদ নিয়োগ বাণিজ্যে উপহারের বিনিময়ে সুবিধা: দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিমের আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ, জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন পরিস্থিতি ছিল প্রায় অসম্ভব

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধে বিপাকে এশিয়া, প্রতিশ্রুতি থাকলেও সহযোগিতা অনিশ্চিত

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন জ্বালানি ও সার সংকটে দিশেহারা, তখন প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চীন নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যত রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে মিলছে না প্রয়োজনীয় সহায়তা।

সংকটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তীব্র চাপে পড়েছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশ চীনের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে অন্তত সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।

From Belt and Road to belt tightening: China's neighbours get cold shoulder  on energy | Reuters

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

চীন সম্প্রতি আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা বললেও বাস্তবে তাদের অবস্থান অনেকটাই নীরব ও অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন নিজস্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী।

চীনের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মজুত বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। সেই কৌশলের ফলেই এখন তারা নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিকল্প খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো

চীনের এই অবস্থানের ফলে অনেক দেশ এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা বাড়ছে। তবে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়, ফলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন হয়তো কিছু প্রতীকী সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু বড় পরিসরে জ্বালানি বা খাদ্য মজুত ভাগ করে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

Southeast Asia Fuel Struggles as China Bans Energy Export

কৌশলগত হিসাব-নিকাশ

চীনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। দেশটি চায় না এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে, যা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হবে। তাই তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে রপ্তানি পুনরায় চালুর পথ বেছে নিতে পারে।

একই সঙ্গে এই সংকট অন্য দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে চীন ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই এখন বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন শ্রবণ পরীক্ষা বুথে অপেক্ষার সময় অর্ধেক, দ্রুত সেবা পাচ্ছেন রোগীরা

চীনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধে বিপাকে এশিয়া, প্রতিশ্রুতি থাকলেও সহযোগিতা অনিশ্চিত

১২:১৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন জ্বালানি ও সার সংকটে দিশেহারা, তখন প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা চীন নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যত রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। ফলে আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে মিলছে না প্রয়োজনীয় সহায়তা।

সংকটে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধকে ঘিরে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো তীব্র চাপে পড়েছে। বাংলাদেশসহ বহু দেশ চীনের জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান জ্বালানি চুক্তি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যাতে অন্তত সারের সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়।

From Belt and Road to belt tightening: China's neighbours get cold shoulder  on energy | Reuters

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা

চীন সম্প্রতি আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের কথা বললেও বাস্তবে তাদের অবস্থান অনেকটাই নীরব ও অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীন এখন নিজস্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বেশি মনোযোগী।

চীনের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারকেরা দীর্ঘদিন ধরেই মজুত বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল। সেই কৌশলের ফলেই এখন তারা নিজেদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিকল্প খুঁজছে এশিয়ার দেশগুলো

চীনের এই অবস্থানের ফলে অনেক দেশ এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে রাশিয়ার মতো দেশ থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা বাড়ছে। তবে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়, ফলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন হয়তো কিছু প্রতীকী সহায়তা দিতে পারে, কিন্তু বড় পরিসরে জ্বালানি বা খাদ্য মজুত ভাগ করে নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

Southeast Asia Fuel Struggles as China Bans Energy Export

কৌশলগত হিসাব-নিকাশ

চীনের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। দেশটি চায় না এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে, যা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা কঠিন হবে। তাই তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধীরে ধীরে রপ্তানি পুনরায় চালুর পথ বেছে নিতে পারে।

একই সঙ্গে এই সংকট অন্য দেশগুলোকে নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে চীন ইতোমধ্যেই এগিয়ে আছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা

এই পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আঞ্চলিক সহযোগিতার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই এখন বড় হয়ে উঠেছে। ফলে এশিয়ার দেশগুলোর জন্য ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।