০৮:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী আজ মধ্যরাতেই শেষ হচ্ছে অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ঈদযাত্রায় ১৫ দিনে ৩৯৪ জনের মৃত্যু: মোটরসাইকেল সবচেয়ে মরণঘাতী বাহন ৩০ বছরের পুরনো সেতু ধসে সুনামগঞ্জে ৫০ হাজার মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝিনাইদহে সাইকেলচালক নিহত, আহত ৫ জন হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২৭ জন, এ বছর মোট ১,৮৪৩ বাংলাদেশ সফরের জন্য নিউজিল্যান্ড দল ঘোষণা, ইনজুরি কাটিয়ে ফিরলেন ফিশার-ওরোর্ক-টিকনার রাশিয়া থেকে ৩৫,০০০ টন এমওপি সার আমদানি অনুমোদন, কুলাউড়া রেলপথ সংস্কারেও সায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অনিয়ম সংশোধনে কাজ করছে সরকার: মন্ত্রী আজম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল স্মার্টফোন রপ্তানি খাতকে প্রথম বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠানো এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

রপ্তানিতে দ্রুত উত্থান
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারত প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের মোবাইল ফোন রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেখায় যে, চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতার মধ্যে ভারত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো ভারতে ডিভাইস তৈরি করে বিদেশে পাঠাচ্ছে।

সংকটের প্রভাব ও আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্মার্টফোন রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব রপ্তানি আমিরাতের মতো আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ব্র্যান্ডের তুলনায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের চালান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারত থেকে রপ্তানিকৃত স্মার্টফোনের উল্লেখযোগ্য অংশ আমিরাতের মাধ্যমে যায়। অনুমান করা হয়, এমন ব্যবসায়ীদের পাঠানো প্রতি ১০টি ফোনের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি আমিরাতে পৌঁছায়। তবে বড় কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীরা আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

সম্ভাব্য রপ্তানি পতন
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে সংগঠিত রপ্তানি ও ব্যবসায়ী-নির্ভর উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে, যদিও আঞ্চলিক হাব নির্ভর রপ্তানি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্ব
ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে উপসাগরীয় অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমিরাত ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য, যেখানে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ফোন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য পুনর্বণ্টনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

লজিস্টিক সমস্যা, চাহিদা স্থিতিশীল
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূলত পরিবহন খরচ কিছুটা বেড়েছে এবং পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বাজারে চাহিদার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। বড় ব্র্যান্ডগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য পাঠায়, ফলে তারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্যদিকে, যারা আঞ্চলিক হাবের ওপর নির্ভর করে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা, তারা বেশি অস্থিরতার মুখে পড়েছে। অনিশ্চয়তা বাড়লে ব্যবসায়ীরা সাধারণত চালান স্থগিত রাখেন, যা রপ্তানিকে আরও ধীর করে দেয়।

সংঘাতের শুরুতে সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের প্রথম দিকেই লজিস্টিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে। বর্তমানে কোম্পানিগুলো দুবাই ও দোহা মতো হাব এড়িয়ে সরাসরি রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

বিকল্প বাজারের দিকে ঝোঁক
দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি আয় কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

দেশীয় বাজারেও চাপ
শুধু রপ্তানি নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ স্মার্টফোন বাজারও চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালে দেশে স্মার্টফোন সরবরাহ কমে প্রায় ১৩২ মিলিয়ন ইউনিটে নেমে আসতে পারে, যা ২০২৫ সালের প্রায় ১৫২ মিলিয়ন ইউনিট থেকে কম।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এই চাপ আরও বাড়িয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ফলে তারা স্মার্টফোনের মতো অপ্রয়োজনীয় পণ্যের বদলে জরুরি খাতে খরচকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি খাতে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বড় কোম্পানিগুলো কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রপ্তানি ও দেশীয় বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি সংকটে স্কুলে হাইব্রিড ক্লাস চালুর পরিকল্পনা, ষষ্ঠ দিনও বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের রুটে ধাক্কা, ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা

০৬:৩২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল স্মার্টফোন রপ্তানি খাতকে প্রথম বড় ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য পাঠানো এখন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

রপ্তানিতে দ্রুত উত্থান
২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারত প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের মোবাইল ফোন রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। এই প্রবৃদ্ধি দেখায় যে, চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতার মধ্যে ভারত একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো ভারতে ডিভাইস তৈরি করে বিদেশে পাঠাচ্ছে।

সংকটের প্রভাব ও আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে স্মার্টফোন রপ্তানি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব রপ্তানি আমিরাতের মতো আঞ্চলিক বাণিজ্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বড় ব্র্যান্ডের তুলনায় ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের চালান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভারত থেকে রপ্তানিকৃত স্মার্টফোনের উল্লেখযোগ্য অংশ আমিরাতের মাধ্যমে যায়। অনুমান করা হয়, এমন ব্যবসায়ীদের পাঠানো প্রতি ১০টি ফোনের মধ্যে ৩ থেকে ৪টি আমিরাতে পৌঁছায়। তবে বড় কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট ব্যবহার করতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীরা আকাশপথের সীমাবদ্ধতার কারণে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

সম্ভাব্য রপ্তানি পতন
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি ২২ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে সংগঠিত রপ্তানি ও ব্যবসায়ী-নির্ভর উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়বে, যদিও আঞ্চলিক হাব নির্ভর রপ্তানি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্ব
ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানিতে উপসাগরীয় অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমিরাত ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য, যেখানে প্রায় ৩.১ বিলিয়ন ডলারের ফোন পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পণ্য পুনর্বণ্টনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

লজিস্টিক সমস্যা, চাহিদা স্থিতিশীল
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূলত পরিবহন খরচ কিছুটা বেড়েছে এবং পণ্য পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বাজারে চাহিদার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। বড় ব্র্যান্ডগুলো সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য পাঠায়, ফলে তারা তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিতে রয়েছে।

অন্যদিকে, যারা আঞ্চলিক হাবের ওপর নির্ভর করে, বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ীরা, তারা বেশি অস্থিরতার মুখে পড়েছে। অনিশ্চয়তা বাড়লে ব্যবসায়ীরা সাধারণত চালান স্থগিত রাখেন, যা রপ্তানিকে আরও ধীর করে দেয়।

সংঘাতের শুরুতে সবচেয়ে বেশি বিঘ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের প্রথম দিকেই লজিস্টিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে। বর্তমানে কোম্পানিগুলো দুবাই ও দোহা মতো হাব এড়িয়ে সরাসরি রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

বিকল্প বাজারের দিকে ঝোঁক
দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে রপ্তানি আয় কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো বিকল্প বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

দেশীয় বাজারেও চাপ
শুধু রপ্তানি নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ স্মার্টফোন বাজারও চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৬ সালে দেশে স্মার্টফোন সরবরাহ কমে প্রায় ১৩২ মিলিয়ন ইউনিটে নেমে আসতে পারে, যা ২০২৫ সালের প্রায় ১৫২ মিলিয়ন ইউনিট থেকে কম।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট এই চাপ আরও বাড়িয়েছে। জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমছে। ফলে তারা স্মার্টফোনের মতো অপ্রয়োজনীয় পণ্যের বদলে জরুরি খাতে খরচকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের স্মার্টফোন রপ্তানি খাতে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বড় কোম্পানিগুলো কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারলেও ছোট ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রপ্তানি ও দেশীয় বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।