০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক নর্থ সাগরের তেল-গ্যাস, রাজনৈতিক দ্বিধা এবং এসএনপির ক্রমবর্ধমান সংকট দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপের দাবি, মানববন্ধনে কুড়িগ্রামবাসী ইসলামী ব্যাংকের সতর্কবার্তা: অপতৎপরতা রুখতে আইনি ব্যবস্থার ঘোষণা, তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার দাবি হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি: সড়ক অবরোধে জ্বালানি-খাদ্য সংকট, বাড়ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ভারতের ডিজিটাল জনগণনা মাঠে: তাপদাহ, নিরাপত্তা শঙ্কা ও প্রযুক্তিগত বাধায় বিপাকে গণনাকারীরা পাঁচ বছর না খেয়েও বেঁচে থাকে গভীর সমুদ্রের এই প্রাণী, জানাল নতুন গবেষণা হরমুজ সংকট কাটলেও বিশ্ব অর্থনীতির স্বস্তি ফিরতে সময় লাগবে ক্রিকেট পিচের বিজ্ঞান ও শিল্প: কেন একেক উইকেট বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য

জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প

বিশ্বজুড়ে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো পড়েছে এক কঠিন দ্বন্দ্বে। একদিকে বাড়তি খরচ সামলাতে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী চাহিদা ধরে রাখতে আবার ভাড়া কমানোর চাপ তৈরি হচ্ছে। এই দ্বৈত সংকটই এখন পুরো বিমান শিল্পকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

চাহিদা কমার আশঙ্কা, ভাড়া বাড়ানোর চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিমান পরিচালনার খরচ দ্রুত বেড়ে গেছে। এই খরচ সামলাতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণের চাহিদা কমে যেতে পারে। ফলে বিমান সংস্থাগুলো এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছে—ভাড়া বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী টানতে ভাড়া কমাতে হলে আবার লোকসান বাড়বে। আর ভাড়া বাড়ালে যাত্রীরা বিকল্প পরিবহন যেমন ট্রেন বা বাসের দিকে ঝুঁকতে পারে।

ক্ষমতা কমানোই এখন প্রধান কৌশল

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থা ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে আসন কমে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। অতীতে বড় সংকটের সময়ও একই কৌশল দেখা গেছে।

তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ চাহিদা যদি আরও কমে যায়, তাহলে কম ফ্লাইট নিয়েও লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

Newark airport ground stop due to 'volume,' has been lifted FAA reports -  AOL

জ্বালানি খরচ মেটাতে বাড়ছে টিকিট মূল্য

কিছু বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জও আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে এই বাড়তি চার্জ যাত্রীদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

কম খরচের বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তাদের যাত্রীরা সাধারণত ভাড়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ফলে সামান্য ভাড়া বাড়লেও তারা ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলে ফেলতে পারে।

সরবরাহ সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

নতুন বিমান সরবরাহে বিলম্ব এবং যন্ত্রাংশের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আধুনিক জ্বালানি সাশ্রয়ী বিমান ব্যবহার করলে খরচ কমানো সম্ভব হলেও সরবরাহ সমস্যার কারণে অনেক সংস্থা তা করতে পারছে না।

ফলে পুরোনো বিমানের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা জ্বালানি বেশি খরচ করে এবং ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

শক্তিশালী ও দুর্বল সংস্থার ব্যবধান বাড়বে

বর্তমান সংকটের ফলে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও দুর্বল বিমান সংস্থার মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেসব সংস্থার আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী এবং বিনিয়োগের সুযোগ বেশি, তারা এই চাপ সামাল দিতে পারবে।

অন্যদিকে, দুর্বল সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাদের জন্য এই সংকট টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মের সময় সন্তানের পাশে থাকতে চান ডোকু, বিশ্বকাপ ছাড়ার ইচ্ছা ঘিরে বিতর্ক

জ্বালানি দামে আগুন, বিমান ভাড়ায় চাপ: সংকটে বিশ্ব এয়ারলাইন শিল্প

০৬:৫১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে হঠাৎ জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো পড়েছে এক কঠিন দ্বন্দ্বে। একদিকে বাড়তি খরচ সামলাতে ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে, অন্যদিকে যাত্রী চাহিদা ধরে রাখতে আবার ভাড়া কমানোর চাপ তৈরি হচ্ছে। এই দ্বৈত সংকটই এখন পুরো বিমান শিল্পকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

চাহিদা কমার আশঙ্কা, ভাড়া বাড়ানোর চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বিমান পরিচালনার খরচ দ্রুত বেড়ে গেছে। এই খরচ সামলাতে ভাড়া বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু একই সময়ে সাধারণ মানুষের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ায় ভ্রমণের চাহিদা কমে যেতে পারে। ফলে বিমান সংস্থাগুলো এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে পড়েছে—ভাড়া বাড়ালেও সমস্যা, কমালেও সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী টানতে ভাড়া কমাতে হলে আবার লোকসান বাড়বে। আর ভাড়া বাড়ালে যাত্রীরা বিকল্প পরিবহন যেমন ট্রেন বা বাসের দিকে ঝুঁকতে পারে।

ক্ষমতা কমানোই এখন প্রধান কৌশল

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থা ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। এতে আসন কমে যাওয়ায় ভাড়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে। অতীতে বড় সংকটের সময়ও একই কৌশল দেখা গেছে।

তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ চাহিদা যদি আরও কমে যায়, তাহলে কম ফ্লাইট নিয়েও লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

Newark airport ground stop due to 'volume,' has been lifted FAA reports -  AOL

জ্বালানি খরচ মেটাতে বাড়ছে টিকিট মূল্য

কিছু বিমান সংস্থা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত জ্বালানি চার্জও আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটে এই বাড়তি চার্জ যাত্রীদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

কম খরচের বিমান সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ তাদের যাত্রীরা সাধারণত ভাড়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। ফলে সামান্য ভাড়া বাড়লেও তারা ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলে ফেলতে পারে।

সরবরাহ সংকট বাড়াচ্ছে চাপ

নতুন বিমান সরবরাহে বিলম্ব এবং যন্ত্রাংশের সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আধুনিক জ্বালানি সাশ্রয়ী বিমান ব্যবহার করলে খরচ কমানো সম্ভব হলেও সরবরাহ সমস্যার কারণে অনেক সংস্থা তা করতে পারছে না।

ফলে পুরোনো বিমানের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা জ্বালানি বেশি খরচ করে এবং ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

শক্তিশালী ও দুর্বল সংস্থার ব্যবধান বাড়বে

বর্তমান সংকটের ফলে আর্থিকভাবে শক্তিশালী ও দুর্বল বিমান সংস্থার মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যেসব সংস্থার আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী এবং বিনিয়োগের সুযোগ বেশি, তারা এই চাপ সামাল দিতে পারবে।

অন্যদিকে, দুর্বল সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তাদের জন্য এই সংকট টিকে থাকার লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।