পশ্চিমবঙ্গের মালদায় বিচারিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের মধ্যে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মোফাক্কেরুল ইসলাম। শুক্রবার তাকে আটক করে রাজ্য পুলিশ, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কীভাবে ধরা পড়লেন অভিযুক্ত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা ও পেশায় আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম রাজ্য ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন। বাগডোগরা বিমানবন্দরে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়। অভিযোগ, কালিয়াচক এলাকার ব্লক কার্যালয়ের সামনে তিনি ভিড়কে উসকে দেন এবং সেখান থেকে সরতে নিষেধ করেন। এই উস্কানিই পরবর্তীতে বড় সহিংসতায় রূপ নেয় বলে মনে করছে প্রশাসন।

সহিংসতা ও গ্রেপ্তার অভিযান
মালদার ওই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং অন্তত পঁয়ত্রিশ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিবাদের অধিকার থাকলেও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিচারিক কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তদন্তে জাতীয় সংস্থার প্রবেশ
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তে নেমেছে জাতীয় তদন্ত সংস্থার একটি বিশেষ দল। প্রায় দুই ডজন সদস্যের এই দল ইতিমধ্যে স্থানীয় থানাগুলো পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ, নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত একটি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ জনতা বিচারিক কর্মকর্তাদের ঘেরাও করে রাখে।
সর্বোচ্চ আদালতের কড়া বার্তা
/newsdrum-in/media/media_files/2026/04/02/malda-sir-officials-hostage-west-bengal-judicial-officials-hostage-2026-04-02-13-18-40.jpg)
এই ঘটনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালতও কঠোর অবস্থান নেয়। আদালত জানিয়েছে, বিচারকদের এভাবে অবরুদ্ধ করা শুধু দৃষ্টিকটুই নয়, বরং বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তদন্ত একটি স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দোষারোপে উত্তাপ
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র দোষারোপ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার জন্য কয়েকটি বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়িয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সহিংসতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















