০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬
ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ থাইল্যান্ডে ৩০০ সচিব পাঠানোর খবর মিথ্যা — সরকার বলছে প্রতিবেদন বিভ্রান্তিকর BCS স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১ হাজার ৮২১ কর্মকর্তা পদোন্নতিবঞ্চিত, সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন হাম রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান, শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফ্রান্সে মুসলিমদের সমাবেশ নিষিদ্ধ, নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত আইপিওতে নতুন খেলা: সূচক নীতিমালা বদলে ঝুঁকির মুখে বিনিয়োগকারীরা ইরান যুদ্ধে কুয়েতে আটকা বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াল ঢাকা, মানবিক সহায়তার প্রস্তাব হাঙ্গেরির নির্বাচন: ক্ষমতার দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জনরায়ের লড়াই ৫২ বছর পর মানুষ চাঁদের পথে — আর্টেমিস-২ মহাকাশযান সফলভাবে চন্দ্রকক্ষের দিকে রওনা মার্চে রেমিট্যান্স রেকর্ড, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি জেলেনস্কির, ইরান যুদ্ধেই বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সমীকরণ

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, তার হাতে তখন যথেষ্ট শক্তি নেই। কিন্তু সময় বদলেছে দ্রুত। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যেন নতুন করে শক্তিশালী করে তুলেছে জেলেনস্কির অবস্থান, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কূটনীতিতে।

ইরানের হামলায় উন্মোচিত দুর্বলতা

ইরান সাম্প্রতিক সময়ে কম খরচের বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক ভবন পর্যন্ত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এই আক্রমণ দেখিয়ে দিয়েছে যে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক সস্তা ড্রোন ঠেকানো অনেক দেশের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ইরানের ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা এখন সম্পদ

ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই একই ধরনের ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে হাজার হাজার শাহেদ ধাঁচের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
এই বাস্তবতা থেকেই ইউক্রেন তৈরি করেছে বহুস্তরীয় ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে রয়েছে রাডার শনাক্তকরণ, ইলেকট্রনিক বাধা সৃষ্টি এবং আকাশেই ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম বিশেষ প্রতিরোধক ড্রোন।

আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও কূটনৈতিক সুযোগ

এই প্রযুক্তির কারণে এখন ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১১টি দেশ ইতিমধ্যেই ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ ইউক্রেনীয় সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন, যারা স্থানীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রযুক্তি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।

Ukraine's Drones Can Inspire Taiwan's Naval Defense - CEPA

বিনিময়ে চুক্তির পথ

তবে এই প্রযুক্তি বিনামূল্যে দিতে রাজি নয় ইউক্রেন। জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অর্থ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রের বিনিময়ে তারা এই সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে থাকা ইউক্রেনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের ভিন্ন সুর

যদিও আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে, তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখিয়েছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ড্রোন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে।
অন্যদিকে জেলেনস্কি এ বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য এই প্রতিরোধক ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ইরানের বর্তমান নেতাদের নিয়ে ট্রাম্পের ভিন্ন সুর | The Daily Adin

নতুন বাস্তবতায় জেলেনস্কির কৌশল

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, ড্রোন প্রযুক্তি এখন শুধু যুদ্ধের অস্ত্র নয়, বরং কূটনীতির শক্তিশালী মাধ্যম।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান–আমেরিকা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কঠোর অবস্থান, কূটনীতি প্রশ্নবিদ্ধ

ড্রোন কূটনীতিতে নতুন শক্তি জেলেনস্কির, ইরান যুদ্ধেই বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক সমীকরণ

০২:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

এক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বলেছিলেন, তার হাতে তখন যথেষ্ট শক্তি নেই। কিন্তু সময় বদলেছে দ্রুত। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত যেন নতুন করে শক্তিশালী করে তুলেছে জেলেনস্কির অবস্থান, বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কূটনীতিতে।

ইরানের হামলায় উন্মোচিত দুর্বলতা

ইরান সাম্প্রতিক সময়ে কম খরচের বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহার করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক ভবন পর্যন্ত এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
এই আক্রমণ দেখিয়ে দিয়েছে যে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এত বিপুল সংখ্যক সস্তা ড্রোন ঠেকানো অনেক দেশের পক্ষেই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ইরানের ড্রোন হামলা

ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা এখন সম্পদ

ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই একই ধরনের ড্রোন হামলার মুখে পড়ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে হাজার হাজার শাহেদ ধাঁচের ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে।
এই বাস্তবতা থেকেই ইউক্রেন তৈরি করেছে বহুস্তরীয় ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে রয়েছে রাডার শনাক্তকরণ, ইলেকট্রনিক বাধা সৃষ্টি এবং আকাশেই ড্রোন ধ্বংস করতে সক্ষম বিশেষ প্রতিরোধক ড্রোন।

আন্তর্জাতিক আগ্রহ ও কূটনৈতিক সুযোগ

এই প্রযুক্তির কারণে এখন ইউক্রেনের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ১১টি দেশ ইতিমধ্যেই ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০০ ইউক্রেনীয় সামরিক উপদেষ্টা কাজ করছেন, যারা স্থানীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও এই প্রযুক্তি কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।

Ukraine's Drones Can Inspire Taiwan's Naval Defense - CEPA

বিনিময়ে চুক্তির পথ

তবে এই প্রযুক্তি বিনামূল্যে দিতে রাজি নয় ইউক্রেন। জেলেনস্কি স্পষ্ট করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অর্থ ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রের বিনিময়ে তারা এই সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
যুদ্ধক্ষেত্রে চাপের মুখে থাকা ইউক্রেনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের ভিন্ন সুর

যদিও আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে, তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের সহায়তার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেখিয়েছেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ড্রোন প্রযুক্তিতে অনেক এগিয়ে।
অন্যদিকে জেলেনস্কি এ বিষয়ে সরাসরি বিরোধিতা না করলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য এই প্রতিরোধক ড্রোন প্রযুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

ইরানের বর্তমান নেতাদের নিয়ে ট্রাম্পের ভিন্ন সুর | The Daily Adin

নতুন বাস্তবতায় জেলেনস্কির কৌশল

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হচ্ছে, ড্রোন প্রযুক্তি এখন শুধু যুদ্ধের অস্ত্র নয়, বরং কূটনীতির শক্তিশালী মাধ্যম।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।