যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের নিহত সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির পরিবারের সদস্যদের ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সোলাইমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তার মেয়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিলের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গ্রিন কার্ড বাতিলের পর অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের গ্রিন কার্ড বাতিল করেন। এরপরই ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে এবং বর্তমানে তারা অভিবাসন সংস্থার হেফাজতে রয়েছেন। কোথা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপনের অভিযোগ
পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, হামিদেহ সোলাইমানি আফশার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন, যার প্রমাণ তার সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টে দেখা গেছে। তবে এসব তথ্যের কিছু অংশ পরে মুছে ফেলা হয়েছে।
ইরানের প্রতিক্রিয়া
ইরানের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সোলাইমানির মেয়ে নারজেস সোলাইমানি দাবি করেছেন, তাদের পরিবার কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেনি। তিনি আরও বলেন, সোলাইমানির কোনো ভাতিজি নেই, বরং তার দুই ভাতিজা রয়েছে।
প্রচার সমর্থনের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামিদেহ ইরান সরকারের প্রচারণা সমর্থন করতেন। একই সঙ্গে তার স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিস্তৃত অভিযানের অংশ
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কিছু অভিবাসী নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের পদক্ষেপে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
অন্য পরিবার সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, চলতি মাসের শুরুতেই ইরানের প্রভাবশালী রাজনীতিক আলি লারিজানির মেয়ে ফাতেমেহ আরদেশির-লারিজানি এবং তার স্বামীর আইনি অবস্থানও বাতিল করা হয়েছে। তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন এবং তাদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















