ব্রিটেনে অবৈধ অভিবাসীর সঠিক সংখ্যা কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না, তবে ধারণা করা হয় এটি প্রায় দশ লাখের কাছাকাছি। এই প্রেক্ষাপটে দেশটির ডানপন্থী প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি—কনজারভেটিভ ও রিফর্ম—এখন গণবহিষ্কারের পক্ষে জোর দিচ্ছে। কিন্তু তাদের পরিকল্পনা যতটা উচ্চাকাঙ্ক্ষী, বাস্তবতা ততটাই জটিল ও চ্যালেঞ্জে ভরা।
পরিকল্পনা বড়, প্রস্তুতি কম
রিফর্মের ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’ পাঁচ বছরে ছয় লাখ মানুষকে বহিষ্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আর কনজারভেটিভদের সীমান্ত পরিকল্পনায় রয়েছে সাড়ে সাত লাখের বেশি মানুষকে দেশ ছাড়ার লক্ষ্য। তবে এই পরিকল্পনাগুলো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ, বিস্তারিত রূপরেখা খুবই সীমিত। উভয় দলই মূলত আইনি বাধাকেই বড় সমস্যা মনে করছে, কিন্তু বাস্তবে এটি একটি বড় প্রশাসনিক ও লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ।

অভিবাসীদের খুঁজে পাওয়াই কঠিন
যাদের বহিষ্কার করা হবে, তাদের প্রথমে শনাক্ত ও খুঁজে বের করা জরুরি। সরকারের কাছে প্রায় তিন লাখ মানুষের তথ্য থাকলেও তাদের অবস্থান নির্দিষ্ট করা কঠিন। আরও কয়েক লাখ মানুষকে শনাক্ত করা আরও বড় চ্যালেঞ্জ। ডেটা শেয়ারিং বা মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি দিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়।
নতুন সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা
উভয় দলই যুক্তরাষ্ট্রের ধাঁচে একটি নতুন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা গঠনের কথা বলছে। এতে ব্যাপক কর্মক্ষেত্র অভিযান ও তল্লাশি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই এমন অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও জোরদার হতে পারে।
মানবসম্পদ ও ব্যয়ের চাপ
বর্তমানে বছরে প্রায় চৌত্রিশ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়, যার বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় ফিরে যায়। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জোরপূর্বক বহিষ্কার বাড়াতে হবে, যা অনেক বেশি ব্যয়বহুল। এজন্য বর্তমান জনবল দ্বিগুণ বা এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বাড়াতে হতে পারে, যা নতুন করে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

আটক কেন্দ্রের সংকট
যাদের আটক করা হবে, তাদের রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। বর্তমানে তিন হাজারেরও কম ধারণক্ষমতা রয়েছে, যা কয়েকগুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও অতীতে উচ্চ ব্যয় ও অনুমোদন জটিলতার কারণে তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোথায় পাঠানো হবে অভিবাসীদের
বহিষ্কৃতদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হলে সেই দেশের সঙ্গে সমঝোতা প্রয়োজন। কিছু দেশের সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তা কার্যকর প্রভাব ফেলেনি। অনেক ক্ষেত্রে প্রমাণ করা কঠিন হয় যে ব্যক্তি কোন দেশের নাগরিক। বিশেষ করে আফগানিস্তান ও ইরান থেকে আসা অনেক মানুষকে ফেরত পাঠানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবাস্তব লক্ষ্য, বাস্তব ঝুঁকি
রাজনৈতিক চাপ বাড়লেও বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন। বরং অতিরিক্ত কঠোর নীতি ব্রিটেনের একটি বড় শক্তি—অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সফল করে তোলা—এই ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















