১২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নভেম্বর পর্যন্ত তেল-গ্যাসের উচ্চ দাম থাকবে, হরমুজ অবরোধে বিশ্ববাজারে ৫০% বৃদ্ধি ঈদুল আজহার আগে জ্বালানি সংকটে নৌপথ অচল, পালা করে চলছে লঞ্চ-জাহাজ চট্টগ্রামে গাড়ি ৩০% কম, ভাড়া বেড়েছে ২০-৪০%—জ্বালানি সংকটে পরিবহন বিপর্যয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় দিল্লিতে জ্বালানি সংকট, ঘরে ফেরার চিন্তায় লাখো অভিবাসী শ্রমিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন বিতর্ক: ‘বুলি’ অ্যালবামে নিজেকে খুঁজছেন ইয়ে মানবতা না যন্ত্র—নিউ মিউজিয়ামের নতুন প্রদর্শনীতে ভবিষ্যতের অস্বস্তিকর আয়না মায়ের রহস্যময় নিখোঁজ, কান্না ও বিশ্বাসে ফিরে এলেন টেলিভিশন তারকা সাভানা গাথরি

বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থান: ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণায় বদলে যাচ্ছে শহর পরিকল্পনা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবী যত উষ্ণ হচ্ছে, ততই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার ঘটনা বাড়ছে। এই নতুন বাস্তবতায় শহরগুলোকে বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদরা এগিয়ে আসছেন এক ভিন্ন চিন্তায়—শহরকে জল ঠেকাতে নয়, বরং জল ধারণ করতে সক্ষম করে তোলা।

হঠাৎ বৃষ্টিতে অচল নগরজীবন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। কোথাও মাত্র আধাঘণ্টায় কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টিই রাস্তাকে নদীতে পরিণত করছে, ঘরে ঢুকছে নোংরা পানি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, বরং কত দ্রুত তা নামছে—এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

It's time to re-imagine water systems in cities | IDR

পুরনো অবকাঠামো, নতুন সংকট

বিশ্বের বেশিরভাগ শহরের ড্রেনেজ ও নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল অনেক আগের জলবায়ু পরিস্থিতি মাথায় রেখে। কিন্তু এখনকার অতিরিক্ত ও দ্রুত বৃষ্টিপাত সেই পুরনো ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাস্তা, সাবওয়ে, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

‘স্পঞ্জ সিটি’: নতুন সমাধানের পথে

এই পরিস্থিতিতে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো—শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে বৃষ্টির পানি শোষণ, ধরে রাখা ও ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়া যায়।

এই পদ্ধতিতে কংক্রিট কমিয়ে সবুজ এলাকা, পার্ক, জলাধার, খাল, জলাভূমি ও ছিদ্রযুক্ত মাটির ব্যবহার বাড়ানো হয়। এতে পানি জমে না থেকে মাটির ভেতরে ঢুকে যায় বা সংরক্ষিত থাকে।

প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয়ই মূল শক্তি

জলবায়ু পরিবর্তন: শহরের বন্যা সমস্যা দূর করতে চীনে তৈরি হচ্ছে ‌'স্পঞ্জ সিটি'  - BBC News বাংলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে শহরগুলোকে পানি সরানোর জন্য নালা ও পাইপের ওপর নির্ভর করা হতো। কিন্তু এখন ধারণা বদলেছে—প্রকৃতির মতো করে পানি ব্যবস্থাপনা করাই বেশি কার্যকর।

এই পদ্ধতিতে পার্ক ও খোলা জায়গা শুধু বিনোদনের স্থান নয়, বরং বৃষ্টির পানি ধারণের বড় অবকাঠামো হিসেবেও কাজ করে।

বিশ্বজুড়ে সফল উদাহরণ

চীন ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণাকে জাতীয় কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। একইভাবে ইউরোপের কিছু শহর পার্ক, রাস্তা ও জলাধারকে এমনভাবে সাজাচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সহজে ধারণ করা যায়।

কিছু শহরে দেখা গেছে, বড় বৃষ্টির সময় পার্কগুলো সাময়িকভাবে জলাধারে পরিণত হয় এবং পরে সেই পানি ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়, ফলে ড্রেনেজের ওপর চাপ কমে।

শুধু বন্যা নয়, জলসংকটেও সমাধান

এই ধারণার আরেকটি বড় সুবিধা হলো—সংরক্ষিত পানি পরে গাছের সেচ বা শহরের অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে একদিকে বন্যা কমে, অন্যদিকে পানির অভাবও কিছুটা দূর হয়।

Turning Cities Into Sponges to Save Lives and Property - The New York Times

ভবিষ্যতের শহর কেমন হবে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নিরাপদ শহর হবে সেই শহর, যা পানি ঠেকানোর চেষ্টা না করে বরং তাকে গ্রহণ করতে পারবে।

কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বন্যা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে ক্ষতি কমানো সম্ভব—স্মার্ট পরিকল্পনা ও প্রকৃতিনির্ভর অবকাঠামোর মাধ্যমে।

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

তবে এই পরিবর্তন সহজ নয়। পুরনো শহরগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তবুও ধীরে ধীরে অনেক শহর ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পথে এগোচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো ঝুঁকি দূর করা না গেলেও বন্যার ক্ষতি কমানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

জলবায়ুর এই নতুন বাস্তবতায় শহর পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসছে। ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, বরং এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে পানি শত্রু নয়, বরং জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

শহরকে বন্যা সহনশীল করতে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে, যেখানে পানি ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা

বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ নয়, সহাবস্থান: ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণায় বদলে যাচ্ছে শহর পরিকল্পনা

১০:৫৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবী যত উষ্ণ হচ্ছে, ততই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও হঠাৎ বন্যার ঘটনা বাড়ছে। এই নতুন বাস্তবতায় শহরগুলোকে বাঁচাতে বিশ্বজুড়ে স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদরা এগিয়ে আসছেন এক ভিন্ন চিন্তায়—শহরকে জল ঠেকাতে নয়, বরং জল ধারণ করতে সক্ষম করে তোলা।

হঠাৎ বৃষ্টিতে অচল নগরজীবন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। কোথাও মাত্র আধাঘণ্টায় কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টিই রাস্তাকে নদীতে পরিণত করছে, ঘরে ঢুকছে নোংরা পানি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা শুধু বৃষ্টির পরিমাণ নয়, বরং কত দ্রুত তা নামছে—এটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

It's time to re-imagine water systems in cities | IDR

পুরনো অবকাঠামো, নতুন সংকট

বিশ্বের বেশিরভাগ শহরের ড্রেনেজ ও নিকাশি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল অনেক আগের জলবায়ু পরিস্থিতি মাথায় রেখে। কিন্তু এখনকার অতিরিক্ত ও দ্রুত বৃষ্টিপাত সেই পুরনো ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাস্তা, সাবওয়ে, ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে যাচ্ছে।

‘স্পঞ্জ সিটি’: নতুন সমাধানের পথে

এই পরিস্থিতিতে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো—শহরকে এমনভাবে গড়ে তোলা, যাতে বৃষ্টির পানি শোষণ, ধরে রাখা ও ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়া যায়।

এই পদ্ধতিতে কংক্রিট কমিয়ে সবুজ এলাকা, পার্ক, জলাধার, খাল, জলাভূমি ও ছিদ্রযুক্ত মাটির ব্যবহার বাড়ানো হয়। এতে পানি জমে না থেকে মাটির ভেতরে ঢুকে যায় বা সংরক্ষিত থাকে।

প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয়ই মূল শক্তি

জলবায়ু পরিবর্তন: শহরের বন্যা সমস্যা দূর করতে চীনে তৈরি হচ্ছে ‌'স্পঞ্জ সিটি'  - BBC News বাংলা

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে শহরগুলোকে পানি সরানোর জন্য নালা ও পাইপের ওপর নির্ভর করা হতো। কিন্তু এখন ধারণা বদলেছে—প্রকৃতির মতো করে পানি ব্যবস্থাপনা করাই বেশি কার্যকর।

এই পদ্ধতিতে পার্ক ও খোলা জায়গা শুধু বিনোদনের স্থান নয়, বরং বৃষ্টির পানি ধারণের বড় অবকাঠামো হিসেবেও কাজ করে।

বিশ্বজুড়ে সফল উদাহরণ

চীন ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণাকে জাতীয় কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছে। একইভাবে ইউরোপের কিছু শহর পার্ক, রাস্তা ও জলাধারকে এমনভাবে সাজাচ্ছে, যাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি সহজে ধারণ করা যায়।

কিছু শহরে দেখা গেছে, বড় বৃষ্টির সময় পার্কগুলো সাময়িকভাবে জলাধারে পরিণত হয় এবং পরে সেই পানি ধীরে ধীরে ছেড়ে দেয়, ফলে ড্রেনেজের ওপর চাপ কমে।

শুধু বন্যা নয়, জলসংকটেও সমাধান

এই ধারণার আরেকটি বড় সুবিধা হলো—সংরক্ষিত পানি পরে গাছের সেচ বা শহরের অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যায়। ফলে একদিকে বন্যা কমে, অন্যদিকে পানির অভাবও কিছুটা দূর হয়।

Turning Cities Into Sponges to Save Lives and Property - The New York Times

ভবিষ্যতের শহর কেমন হবে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নিরাপদ শহর হবে সেই শহর, যা পানি ঠেকানোর চেষ্টা না করে বরং তাকে গ্রহণ করতে পারবে।

কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে বন্যা পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়, তবে ক্ষতি কমানো সম্ভব—স্মার্ট পরিকল্পনা ও প্রকৃতিনির্ভর অবকাঠামোর মাধ্যমে।

বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

তবে এই পরিবর্তন সহজ নয়। পুরনো শহরগুলোকে নতুন করে গড়ে তোলা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। তবুও ধীরে ধীরে অনেক শহর ছোট ছোট প্রকল্পের মাধ্যমে এই পথে এগোচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো ঝুঁকি দূর করা না গেলেও বন্যার ক্ষতি কমানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।

জলবায়ুর এই নতুন বাস্তবতায় শহর পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসছে। ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা শুধু একটি প্রযুক্তিগত সমাধান নয়, বরং এটি একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে পানি শত্রু নয়, বরং জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

শহরকে বন্যা সহনশীল করতে ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে, যেখানে পানি ধারণ ও ব্যবস্থাপনায় প্রকৃতিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।