যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত প্রায় ১৮০ কোটি ডলারের একটি বিতর্কিত তহবিলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার দাবি করা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য গঠিত এই তহবিল নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যে আদালতের এ সিদ্ধান্ত এলো।
ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক লিওনি ব্রিঙ্কেমা নির্দেশ দিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আরও আইনি শুনানি না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসন তহবিল গঠন বা পরিচালনার জন্য কোনো নতুন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। অন্তত ১২ জুন পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।
কী ছিল এই তহবিল?

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন ফান্ড’ নামে এই তহবিল গঠনের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্পের কর-সংক্রান্ত নথি ফাঁস হওয়ার ঘটনায় সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলার নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
প্রস্তাবিত তহবিলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। পাঁচ সদস্যের একটি কমিশনের মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়। যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্ত, মামলা বা সরকারি হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে প্রমাণ করতে পারবেন, তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল।
আদালতে চ্যালেঞ্জ
তহবিলের বৈধতা নিয়ে একটি সংগঠন আদালতে মামলা করে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিরোধীদের এই তহবিল থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে।

মামলাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকারি অর্থ ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তারা অভিযোগ করেন, তহবিলটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও তৈরি করেছে।
বিচারক ব্রিঙ্কেমা বলেন, আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে তহবিলের অর্থ বিতরণ শুরু হলে পরিস্থিতি অপরিবর্তনীয় হয়ে যেতে পারে। তাই বর্তমান অবস্থা বজায় রাখতে সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রয়োজন।
প্রশাসনের অবস্থান
অন্যদিকে বিচার বিভাগ তহবিলটির বৈধতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় বিবেচনা থাকবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিচারিক হস্তক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।

রিপাবলিকানদের মধ্যেও আপত্তি
এই তহবিল ঘোষণার পর শুধু বিরোধী শিবির নয়, ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কিছু নেতার মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দেয়।
সমালোচকদের আশঙ্কা, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনায় জড়িত কিছু ব্যক্তি পর্যন্ত এই তহবিল থেকে অর্থ পেতে পারেন। এজন্য অনেকেই তহবিলটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পুরস্কার ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
সামনে কী হতে পারে
তহবিলকে চ্যালেঞ্জ করে একাধিক মামলা ইতোমধ্যে আদালতে গিয়েছে। বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ছিল ঘোষণার ৬০ দিনের মধ্যে তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা। তবে আদালতের সর্বশেষ আদেশে সেই প্রক্রিয়া আপাতত থেমে গেছে।
আগামী শুনানিতে আদালত তহবিলটির বৈধতা, অর্থ ব্যবহারের নিয়ম এবং এর সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করবে। ফলে এই তহবিলের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















