০২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
টেলিনর গ্রুপের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বৈচিত্র্যের মাঝে একতা: বাংলার নববর্ষ উদযাপনে অনন্য বাংলাদেশ পহেলা বৈশাখে ঢাবি মেট্রো স্টেশন বন্ধ, শাহবাগ দুপুর ১২টা পর্যন্ত, সকাল ৯টায় বৈশাখী শোভাযাত্রা আজই ইরানের সব বন্দর অবরোধ করবে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিষিদ্ধ পেপটাইডের মোহ: স্বাস্থ্য নাকি ঝুঁকির খেলা? শুরুতে ব্যর্থতা, তারপর ঝড়—সঞ্জু স্যামসনের জোড়া বদলে চেন্নাইয়ের নতুন আশা মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, নভেম্বর পর্যন্ত তেল-গ্যাসের উচ্চ দাম থাকবে, হরমুজ অবরোধে বিশ্ববাজারে ৫০% বৃদ্ধি ঈদুল আজহার আগে জ্বালানি সংকটে নৌপথ অচল, পালা করে চলছে লঞ্চ-জাহাজ

তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।

সংকটের প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে বাধা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন

Oil jumps 7pc to above US$100 ahead of US blockade on Iran

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৯১ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বেড়ে ১০৪.১৬ ডলারে দাঁড়ায়। আগের সেশনে দাম কিছুটা কমলেও নতুন পরিস্থিতিতে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন কার্যত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার অতিরিক্ত চাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্বীকার করেন, এর ফলে তেল ও জ্বালানির দাম আগামী নির্বাচনের সময় পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে ইরানের বাইরে অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

The terrorism of Iran's Islamic Revolutionary Guard Corps

ইরানের পাল্টা সতর্কতা

ইরানের বিপ্লবী গার্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোয়, তাহলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এতে করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির মাঝেও কিছু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে সম্ভাব্য অবরোধের কারণে অনেক জাহাজ ইতিমধ্যেই বিকল্প পথ খুঁজছে বা ওই এলাকা এড়িয়ে চলছে। এতে করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে।

সৌদি আরবের উদ্যোগ

এই পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। ইরান সংঘাতের সময় জ্বালানি খাতে ক্ষতির পর দ্রুত এই সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করতে পারে।

Oil jumps to 2022 high on Iran war, falls after close as Russia sanctions  in doubt - The Business Times

সার্বিক পরিস্থিতি

বিশ্ব তেল বাজার এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হলে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলিনর গ্রুপের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

তেল ৭ শতাংশ লাফিয়ে ১০০ ডলার ছাড়াল, ইরান অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি

১২:৩৪:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।

সংকটের প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে বাধা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন

Oil jumps 7pc to above US$100 ahead of US blockade on Iran

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৯১ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বেড়ে ১০৪.১৬ ডলারে দাঁড়ায়। আগের সেশনে দাম কিছুটা কমলেও নতুন পরিস্থিতিতে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন কার্যত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার অতিরিক্ত চাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্বীকার করেন, এর ফলে তেল ও জ্বালানির দাম আগামী নির্বাচনের সময় পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে ইরানের বাইরে অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

The terrorism of Iran's Islamic Revolutionary Guard Corps

ইরানের পাল্টা সতর্কতা

ইরানের বিপ্লবী গার্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোয়, তাহলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এতে করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির মাঝেও কিছু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে সম্ভাব্য অবরোধের কারণে অনেক জাহাজ ইতিমধ্যেই বিকল্প পথ খুঁজছে বা ওই এলাকা এড়িয়ে চলছে। এতে করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে।

সৌদি আরবের উদ্যোগ

এই পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। ইরান সংঘাতের সময় জ্বালানি খাতে ক্ষতির পর দ্রুত এই সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করতে পারে।

Oil jumps to 2022 high on Iran war, falls after close as Russia sanctions  in doubt - The Business Times

সার্বিক পরিস্থিতি

বিশ্ব তেল বাজার এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হলে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।