মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও তীব্রভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে।
সংকটের প্রেক্ষাপট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে বাধা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তেলের দামে হঠাৎ উল্লম্ফন
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১.৯১ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও বেড়ে ১০৪.১৬ ডলারে দাঁড়ায়। আগের সেশনে দাম কিছুটা কমলেও নতুন পরিস্থিতিতে বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন কার্যত যুদ্ধবিরতির আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। তবে এবার অতিরিক্ত চাপ হিসেবে যুক্ত হয়েছে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও স্বীকার করেন, এর ফলে তেল ও জ্বালানির দাম আগামী নির্বাচনের সময় পর্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় থেকে ইরানের সব বন্দরগামী ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে ইরানের বাইরে অন্য দেশের বন্দরে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজের চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

ইরানের পাল্টা সতর্কতা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো সামরিক জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোয়, তাহলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এতে করে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কিছু তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। তবে সম্ভাব্য অবরোধের কারণে অনেক জাহাজ ইতিমধ্যেই বিকল্প পথ খুঁজছে বা ওই এলাকা এড়িয়ে চলছে। এতে করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়তে পারে।
সৌদি আরবের উদ্যোগ
এই পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনের সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। ইরান সংঘাতের সময় জ্বালানি খাতে ক্ষতির পর দ্রুত এই সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করতে পারে।
সার্বিক পরিস্থিতি
বিশ্ব তেল বাজার এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ কার্যকর হলে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















