০৭:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বাধা: চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না পুলিশের নিরাপত্তা সতর্কতা ছিল রুটিন নির্দেশনা, হামলার নির্দিষ্ট তথ্য নেই: ডিবি প্রধান আমরাই গড়ছি আমাদের প্রাপ্য গণমাধ্যম পাকিস্তানে তুষারধসে প্রাণ গেল বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী নির্মল পুরজা ও ৯ সহযাত্রীর গোপালগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত তোরণে আগুন পাঞ্জাবের হারানো রাজকন্যাদের নীরব বিদ্রোহ: ইতিহাসের চাপা অধ্যায় ফিরিয়ে আনল কেনসিংটন প্রাসাদের প্রদর্শনী তরুণ ভোটারদের নতুন বার্তা: কর্মদক্ষতার রাজনীতিই ভবিষ্যৎ সেউতা সংকট: অভিবাসনের ঢেউ, রাজনৈতিক লাভ আর অদৃশ্য শক্তির প্রশ্ন আগামী দশকে জাপানি বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় গন্তব্য হবে ভারত পথের বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়া: দক্ষিণ এশিয়ার আট নারীর বদলে দেওয়ার গল্প

মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে পূর্ণ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি ও ব্যর্থ আলোচনা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠক ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এমন বৈঠক বিরল। ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধ থামাতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল।

এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প: আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট - ShareAmerica

মার্কিন অবরোধের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে অন্যান্য দেশের বন্দরে যাওয়া জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পানিতে যেসব জাহাজ ইরানকে কোনো ধরনের কর দেবে, সেগুলোকে আটক করা হবে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যে মাইন বসিয়েছে, তা ধ্বংস করার কাজও শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের বৈশ্বিক প্রভাব পড়ছে।

ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

মার্কিন ঘোষণার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, তাদের জলসীমার কাছে কোনো সামরিক উপস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সমঝোতার পথে বাধা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে কী শর্ত দিল ইরান? - বাংলাদেশ টাইমস

বিরোধের মূল কারণ

আলোচনায় মূলত দুটি বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক, বড় স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলুক এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবিও জানানো হয়।

ইরান এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং একটি ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায্য’ চুক্তির দাবি জানায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ডলারের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের সময় পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেব: ইরানের প্রেসিডেন্ট

আলোচনার সম্ভাবনা এখনো আছে

সব উত্তেজনার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরতে পারে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা না ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।

বিশ্লেষণ: সংকট কোন দিকে যাচ্ছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর হওয়ায় সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

একই সঙ্গে কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—তবে তা নির্ভর করছে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

যক্ষ্মার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় বাধা: চিকিৎসা চলছে, কিন্তু সরকারি সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না

মার্কিন অবরোধে ইরান: ব্যর্থ আলোচনার পর নতুন সংঘাতের শঙ্কা

১২:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে পূর্ণ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতির পর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে, ডলারের মান শক্তিশালী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি ও ব্যর্থ আলোচনা

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি বৈঠক ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম উচ্চপর্যায়ের আলোচনা। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এমন বৈঠক বিরল। ছয় সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুদ্ধ থামাতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছিল।

এই সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। তবে আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প: আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট - ShareAmerica

মার্কিন অবরোধের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। তবে অন্যান্য দেশের বন্দরে যাওয়া জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আন্তর্জাতিক পানিতে যেসব জাহাজ ইরানকে কোনো ধরনের কর দেবে, সেগুলোকে আটক করা হবে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যে মাইন বসিয়েছে, তা ধ্বংস করার কাজও শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের বৈশ্বিক প্রভাব পড়ছে।

ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

মার্কিন ঘোষণার পর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, তাদের জলসীমার কাছে কোনো সামরিক উপস্থিতিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে এবং সমঝোতার পথে বাধা দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলতে কী শর্ত দিল ইরান? - বাংলাদেশ টাইমস

বিরোধের মূল কারণ

আলোচনায় মূলত দুটি বিষয় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ।

যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান সম্পূর্ণভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করুক, বড় স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলুক এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করুক। পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুতিদের প্রতি সমর্থন বন্ধের দাবিও জানানো হয়।

ইরান এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে এবং একটি ‘সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায্য’ চুক্তির দাবি জানায়।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ডলারের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জ্বালানির দাম বেড়ে চলেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে স্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনের সময় পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেব: ইরানের প্রেসিডেন্ট

আলোচনার সম্ভাবনা এখনো আছে

সব উত্তেজনার মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনায় ফিরতে পারে। তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তারা না ফিরলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন।

বিশ্লেষণ: সংকট কোন দিকে যাচ্ছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর হওয়ায় সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।

একই সঙ্গে কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—তবে তা নির্ভর করছে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত তার ওপর।