যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, চলতি বছরের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তেল ও গ্যাসের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এই মন্তব্য তার রাজনৈতিক অবস্থানেও নতুন চাপ তৈরি করছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো সমঝোতা না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
জ্বালানির দাম কেন বাড়ছে
এপ্রিল মাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম ৪ ডলারের বেশি অবস্থানে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে এই দাম ছিল ৩ ডলারের নিচে, সেখানে অল্প সময়ের মধ্যে এমন বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
প্রশাসন শুরুতে দাম বাড়াকে সাময়িক বললেও এখন তারা স্বীকার করছে, যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের সিদ্ধান্ত
ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ বসাবে এবং ইরানকে অর্থ প্রদান করে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে থামানো হবে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, এই অবরোধ মূলত ইরানের বন্দরগামী জাহাজের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে ইরানের আগেই প্রণালীর গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
ইরানের পাল্টা সতর্কতা
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, এই অবরোধ যুক্তরাষ্ট্রেই গ্যাসের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। তার মতে, বর্তমান দামই ভবিষ্যতে তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে হবে।
যুদ্ধের প্রভাব ও মানবিক ক্ষতি
ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। এরপর দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে ইরান ও তার মিত্ররা পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং লেবাননে ব্যাপক হামলা হয়।

এই সংঘাতে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প প্রশাসন
যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে গেছে। জরিপে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং বাড়তি জ্বালানি দামে অসন্তুষ্ট।
তার অনুমোদনের হার দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে, যা রিপাবলিকান দলের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
বিরোধীদের প্রশ্ন

ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার প্রশ্ন তুলেছেন, এই অবরোধ আদৌ কোনো কার্যকর ফল দেবে কি না। তার মতে, ইরান এখনও ছোট নৌকা ও অন্যান্য উপায়ে প্রণালীতে হামলা চালাতে পারে, ফলে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্য অর্জন কঠিন।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসনও স্বীকার করেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক কৌশল, অর্থনীতি ও রাজনীতি—তিনটি ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে ট্রাম্প প্রশাসন আশাবাদী হলেও বাস্তবতা ইঙ্গিত দিচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী সংকটের দিকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















