তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দামের পতনে ভুগছিল চীনের অর্থনীতি। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই প্রবণতা বদলাতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্চ মাসে চীনে আবারও মূল্যস্ফীতি ফিরে এসেছে।
উৎপাদক দামে বড় পরিবর্তন
চীনের সরকারি তথ্য বলছে, মার্চ মাসে উৎপাদক পর্যায়ের দাম এক বছর আগের তুলনায় ০.৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের পর এই প্রথম এমন বৃদ্ধি দেখা গেল। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে এই দাম কমেছিল ০.৯ শতাংশ।
দীর্ঘদিন ধরে কমতে থাকা পাইকারি দামের কারণে হাজার হাজার কারখানাকে তাদের পণ্য কম দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এতে লাভ কমেছে, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের প্রভাব
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও কাঁচামালের সরবরাহে চাপ তৈরি হয় এবং দাম বাড়তে শুরু করে।
বিশ্বের অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে আসে। ফলে এই খাতে সংকট তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন শিল্পে খরচ বেড়েছে।
ভোক্তা দামে ধীর গতি
যদিও উৎপাদক দামে বৃদ্ধি দেখা গেছে, ভোক্তা পর্যায়ে সেই প্রভাব তুলনামূলক কম। মার্চ মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ছিল ১ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির ১.৩ শতাংশ থেকে কিছুটা কম।
লুনার নিউ ইয়ার উপলক্ষে ফেব্রুয়ারিতে খরচ বাড়লেও মার্চে তা আবার কমে যায়। চীনে দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
চীনের দামের পরিবর্তন শুধু দেশটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে, কারণ সেসব দেশে ব্যবহৃত অনেক পণ্য সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীন থেকে আসে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি চীনে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ে, তাহলে তা বিশ্বজুড়ে পণ্যের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্দা থেকে বের হওয়ার চ্যালেঞ্জ
দীর্ঘদিনের মূল্যপতন বা ডিফ্লেশন চীনের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এতে কোম্পানিগুলোর ঋণ পরিশোধ এবং কর্মীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এতটাই বেশি যে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা সীমিত রাখা হয়েছে।
তবে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি মূলত আমদানি করা কাঁচামালের দামের কারণে হওয়ায়, এতে উৎপাদকদের লাভ খুব বেশি বাড়বে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের অর্থনীতি এখন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে মূল্যস্ফীতি ফিরলেও তা কতটা স্থায়ী হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















