০৯:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করার দাবি বিজিএমইএর ট্রাম্প-ইরান আলোচনায় প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব, চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ২  নিরাপত্তার রাজনীতি ও দ্বিধাগ্রস্ত জনমত: জাপানের নতুন বাস্তবতা ইপিজেড শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী দুর্ঘটনা সুরক্ষা কর্মসূচি ২০২৭ সালের মধ্যে চালুর অঙ্গীকার নেপথ্যের ‘গুরু’, গোপন বার্তা ও তুলসি গ্যাবার্ডের রাজনৈতিক উত্থান ঘিরে ওয়াশিংটন পোস্টের বিস্ফোরক অনুসন্ধান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ফুটবল নায়ক অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের উত্থান দিনাজপুর সীমান্তে ‘বাংলাদেশে পুশইন’ অভিযোগ, একই পরিবারের চার সদস্য আটক ঢাকায় সাংবাদিক পরিচয়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, যুবক আটক হামে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, বাংলাদেশে হামে প্রাণহানি বেড়ে ৬৮৯

হামের মহামারিতে ১৭৯ শিশুর মৃত্যু — সরকার বলছে “নিয়ন্ত্রণে”, বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংকট এখনও গভীর

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে এ বছর এখন পর্যন্ত ১৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সখাওয়াত হোসেন গত ১২ এপ্রিল দাবি করেছেন পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে” এসেছে। কিন্তু চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনও থামেনি।

প্রতিদিন মরছে শিশু, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ২,৬৩৯টি হামের ঘটনা ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হয়েছে। মাত্র একটি ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১,২৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (আইডিএইচ) রোগীর চাপে ভাঙনের মুখে। সেখানে এ মাসে একাই ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

খুলনায় হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০

কোথায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু

ঢাকায় সর্বাধিক ১৭টি মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এরপরে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-র বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সিলেটেও নতুন রোগী ধরা পড়ছে।

টিকার ব্যর্থতাই মূল কারণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুনে নির্ধারিত টিকাদান অভিযান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। জাতীয় হাম ও রুবেলা যাচাই কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেটি পূরণ হয়নি।

বাংলাদেশে হামে ১৭৯ শিশুর মৃত্যু, ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় টিকাদান অভিযান

জরুরি টিকা অভিযান শুরু

সরকার ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় ৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করছে। ২০ এপ্রিল থেকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জাতীয় টিকা অভিযান শুরু হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করার দাবি বিজিএমইএর

হামের মহামারিতে ১৭৯ শিশুর মৃত্যু — সরকার বলছে “নিয়ন্ত্রণে”, বিশেষজ্ঞরা বলছেন সংকট এখনও গভীর

০৩:৩১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে এ বছর এখন পর্যন্ত ১৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সখাওয়াত হোসেন গত ১২ এপ্রিল দাবি করেছেন পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে” এসেছে। কিন্তু চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনও থামেনি।

প্রতিদিন মরছে শিশু, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ২,৬৩৯টি হামের ঘটনা ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হয়েছে। মাত্র একটি ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১,২৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (আইডিএইচ) রোগীর চাপে ভাঙনের মুখে। সেখানে এ মাসে একাই ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

খুলনায় হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ১০

কোথায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু

ঢাকায় সর্বাধিক ১৭টি মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এরপরে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-র বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সিলেটেও নতুন রোগী ধরা পড়ছে।

টিকার ব্যর্থতাই মূল কারণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুনে নির্ধারিত টিকাদান অভিযান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। জাতীয় হাম ও রুবেলা যাচাই কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেটি পূরণ হয়নি।

বাংলাদেশে হামে ১৭৯ শিশুর মৃত্যু, ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় টিকাদান অভিযান

জরুরি টিকা অভিযান শুরু

সরকার ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় ৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করছে। ২০ এপ্রিল থেকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জাতীয় টিকা অভিযান শুরু হবে।