দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে এ বছর এখন পর্যন্ত ১৭৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সখাওয়াত হোসেন গত ১২ এপ্রিল দাবি করেছেন পরিস্থিতি “নিয়ন্ত্রণে” এসেছে। কিন্তু চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনও থামেনি।
প্রতিদিন মরছে শিশু, হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ২,৬৩৯টি হামের ঘটনা ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হয়েছে। মাত্র একটি ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ১,২৬৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল (আইডিএইচ) রোগীর চাপে ভাঙনের মুখে। সেখানে এ মাসে একাই ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কোথায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু
ঢাকায় সর্বাধিক ১৭টি মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এরপরে রয়েছে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী। নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-র বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছে। সিলেটেও নতুন রোগী ধরা পড়ছে।
টিকার ব্যর্থতাই মূল কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের জুনে নির্ধারিত টিকাদান অভিযান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। জাতীয় হাম ও রুবেলা যাচাই কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হাম শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। সেটি পূরণ হয়নি।

জরুরি টিকা অভিযান শুরু
সরকার ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) প্রায় ৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করছে। ২০ এপ্রিল থেকে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য জাতীয় টিকা অভিযান শুরু হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















