০৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
অলিখিত নিয়মের পক্ষে: কেন কখনও কখনও ‘নাক গলানো’ও নাগরিক দায়িত্ব মার্কিন ‘রেজিম চেঞ্জ’ নীতি: এক শতাব্দীর পুরোনো কৌশল কি নতুন রূপে ফিরে এসেছে? কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ সংকটে পাকিস্তানে গ্যাসের দাম ৩৪ শতাংশের বেশি বাড়ল উত্তর ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযান: পাকিস্তানের দাবি, সেনা মেজর নিহত, ১২ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত পাকিস্তানে টানা ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, বন্যা ও আকস্মিক ঢলের শঙ্কায় একাধিক প্রদেশ সেউতার অভিবাসী সংকট ঘিরে ইউরোপে দ্বিমুখী নীতি? স্পেন ইস্যুতে বিভক্ত ইইউ, নতুন বিতর্ক রাশিয়ার ‘হুমকি’ কি ইউরোপের নতুন ঐক্যের ভিত্তি? ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে বদলে যাচ্ছে পশ্চিমা রাজনীতির সমীকরণ স্বস্তিকা, এসএস প্রতীক ও আজভ কমান্ডারকে ঘিরে বিতর্ক: মার্কিন প্রভাবশালীর প্রশ্নে অস্বস্তিতে আন্দ্রেই বিলেৎসকি মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি আইডাহোর ব্যস্ত বিপণি এলাকায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৭

পশ্চিমবঙ্গে জয়ের ব্যবধান যদি ২% হয়, আর ১৫% ভোটার বাদ পড়ে—তবে কী হবে? ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট

ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় যদি অনেক বেশি ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতিরা।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে শুনানি
পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আদালত শুনানির সময় জানায়, প্রয়োজনে একটি অতিরিক্ত সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিচারপতিরা বলেন, যদি কোনও আসনে জয়ের ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ হয়, অথচ ১৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও আদালত সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে এই ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

ভোটাধিকার: শুধু সাংবিধানিক নয়, আবেগের বিষয়ও
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি মানুষের আবেগের সঙ্গেও জড়িত। একজন নাগরিকের নিজের দেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জাতীয়তা ও অংশগ্রহণের অন্যতম বড় প্রকাশ।

তবে বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন বিচারপতিরা। সেই কারণে একটি শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চায়, কেন ‘লজিক্যাল অসামঞ্জস্যতা’ নামে একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে, যা অন্য রাজ্যগুলিতে দেখা যায়নি। বিচারপতিরা বলেন, পূর্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পদ্ধতির পার্থক্য রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা দরকার।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম সরাসরি বাদ দেওয়া হয়নি। তবে প্রত্যেককে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়েছে।

What if Winning Margin is 2% and 15% Electorate Couldn't Vote?': Justice  Bagchi Raises Concerns on Bengal SIR - The Wire

ন্যায্য প্রক্রিয়া ও সময়ের চাপে উদ্বেগ
আদালত মনে করে, নির্বাচন সামনে থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ থাকলেও তা যেন ন্যায্য প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। শুনানির সুযোগ, নোটিস এবং প্রমাণ উপস্থাপনের অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিচারপতিরা আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা যেন রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পড়ে না যান। বরং তাদের অধিকার রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সম্পূরক তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা
শুনানির শেষে আদালত ইঙ্গিত দেয়, একটি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকায় নাম থাকা ভোটাররাই ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

এদিকে আপিল নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনাও নজরে
একই সঙ্গে বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার একটি ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সংযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

অলিখিত নিয়মের পক্ষে: কেন কখনও কখনও ‘নাক গলানো’ও নাগরিক দায়িত্ব

পশ্চিমবঙ্গে জয়ের ব্যবধান যদি ২% হয়, আর ১৫% ভোটার বাদ পড়ে—তবে কী হবে? ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট

০৭:০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিশেষ করে নির্বাচনে জয়ের ব্যবধানের তুলনায় যদি অনেক বেশি ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন বিচারপতিরা।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে শুনানি
পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় যেসব ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিচারাধীন রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আদালত শুনানির সময় জানায়, প্রয়োজনে একটি অতিরিক্ত সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

বিচারপতিরা বলেন, যদি কোনও আসনে জয়ের ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ হয়, অথচ ১৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে না পারেন, তাহলে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। যদিও আদালত সরাসরি কোনও সিদ্ধান্ত দেয়নি, তবে এই ধরনের পরিস্থিতি গণতন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়।

ভোটাধিকার: শুধু সাংবিধানিক নয়, আবেগের বিষয়ও
আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ভোটার তালিকায় নাম থাকা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি মানুষের আবেগের সঙ্গেও জড়িত। একজন নাগরিকের নিজের দেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া তার জাতীয়তা ও অংশগ্রহণের অন্যতম বড় প্রকাশ।

তবে বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন বিচারপতিরা। সেই কারণে একটি শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
আদালত নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চায়, কেন ‘লজিক্যাল অসামঞ্জস্যতা’ নামে একটি নতুন শ্রেণি তৈরি করা হয়েছে, যা অন্য রাজ্যগুলিতে দেখা যায়নি। বিচারপতিরা বলেন, পূর্বের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পদ্ধতির পার্থক্য রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার করা দরকার।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরনো ভোটার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম সরাসরি বাদ দেওয়া হয়নি। তবে প্রত্যেককে নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে হয়েছে।

What if Winning Margin is 2% and 15% Electorate Couldn't Vote?': Justice  Bagchi Raises Concerns on Bengal SIR - The Wire

ন্যায্য প্রক্রিয়া ও সময়ের চাপে উদ্বেগ
আদালত মনে করে, নির্বাচন সামনে থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চাপ থাকলেও তা যেন ন্যায্য প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। শুনানির সুযোগ, নোটিস এবং প্রমাণ উপস্থাপনের অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

বিচারপতিরা আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে ভোটাররা যেন রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পড়ে না যান। বরং তাদের অধিকার রক্ষা করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সম্পূরক তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনা
শুনানির শেষে আদালত ইঙ্গিত দেয়, একটি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তালিকায় নাম থাকা ভোটাররাই ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

এদিকে আপিল নিষ্পত্তির জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

সহিংসতার ঘটনাও নজরে
একই সঙ্গে বিচারিক কর্মকর্তাদের ওপর হামলার একটি ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক সংযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা—এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চায়।