ভারতের পাহাড়ি ঢলে ও অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও সিলেটের হাওর অঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, ঘরে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, আর ধান কাটার ঠিক আগমুহূর্তে সব হারিয়ে যাচ্ছে।
কতটা ক্ষতি হয়েছে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হিসাবে শুধু সুনামগঞ্জেই এ মৌসুমে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টরে বোরো চাষ হয়েছে। সম্পূর্ণ তোলা গেলে ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হতো এবং এর বাজারমূল্য দাঁড়াত ৫,০৫০ কোটি টাকা। কিন্তু ইতিমধ্যে ১,১৮৯ হেক্টর পানিতে ডুবে গেছে। নেত্রকোণায় ৫০৭ হেক্টর, ময়মনসিংহে আরও কয়েকশ হেক্টর তলিয়ে গেছে। হাকালুকি হাওরের উগলা ও হাসিরধব বিলের ধান সম্পূর্ণ নষ্ট।

কৃষকের কান্না
সুনামগঞ্জের সোলেমানপুর গ্রামের কৃষক জাবের ইসলাম বলেন, “ধান কাটার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বুক-সমান পানিতে সব তলিয়ে গেছে। এখন পচছে। আরও বৃষ্টি হলে পানি আরও বাড়বে।” রণচী গ্রামের আরশাদ মিয়া বলেন, “গত বছর ৬০,০০০ টাকার ঋণ ছিল। এ বছর আরও ৫০,০০০ নিয়েছি। শোধ দেব কীভাবে?”
বাঁধ কাটা নিয়ে বিবাদ
হাওরের ওপরের দিকের কৃষকরা জলাবদ্ধতা কমাতে বাঁধ কাটতে চাইছেন। নিচের দিকের কৃষকরা তাতে বাধা দিচ্ছেন, কারণ তাদের ক্ষেত ডুবে যাবে। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিতে খাল ও বিলগুলো আগেই পূর্ণ হয়ে উপচে পড়েছে।
জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় প্রভাব
বাংলাদেশের মোট বোরো উৎপাদনের ২৫-৩০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে আসে। এই ক্ষতি দেশের চালের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















