০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে শীতলতা, প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো। এতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক গতি আরও ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দাম বাড়ার চাপেই প্রবৃদ্ধি কমছে

বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে সতর্ক হচ্ছে এবং ভোক্তারাও খরচ কমিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ফলে অনেক দেশেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

War in Iran: fuel prices remain high and volatile | IRU | World Road  Transport Organisation

উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে

দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের চাপও বাড়ছে, যা অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যায়, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপকে আরও তীব্র করে।

বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা

ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন, ফলে শেয়ারবাজারে ওঠানামা বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক রুটগুলো ঝুঁকির মুখে থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Global oil and gas prices soar as Iran crisis disrupts shipping, production  | Reuters

সামনে আরও কঠিন সময়

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে। প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের জন্য আগামী সময়টা হবে বড় চ্যালেঞ্জের।

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান এবং বাজারে আস্থা ফেরানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে শীতলতা, প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা

১১:৩৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। জ্বালানি ও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলো। এতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক গতি আরও ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দাম বাড়ার চাপেই প্রবৃদ্ধি কমছে

বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে থাকায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে সতর্ক হচ্ছে এবং ভোক্তারাও খরচ কমিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ফলে অনেক দেশেই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

War in Iran: fuel prices remain high and volatile | IRU | World Road  Transport Organisation

উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে

দাম বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। এসব দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের চাপও বাড়ছে, যা অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, খাদ্য ও জ্বালানি খাতে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বেড়ে যায়, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপকে আরও তীব্র করে।

বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা

ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ খাতে ঝুঁকছেন, ফলে শেয়ারবাজারে ওঠানামা বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপে পড়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক রুটগুলো ঝুঁকির মুখে থাকায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

Global oil and gas prices soar as Iran crisis disrupts shipping, production  | Reuters

সামনে আরও কঠিন সময়

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধাক্কা খেতে পারে। প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেকারত্ব বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের জন্য আগামী সময়টা হবে বড় চ্যালেঞ্জের।

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান এবং বাজারে আস্থা ফেরানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।