যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরান দল অংশ নেবে—এ কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, “ইরান দল অবশ্যই আসছে।” তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকবে, যা টুর্নামেন্টের জন্য সহায়ক হবে।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনও পুনরায় শুরু হয়নি। এর মধ্যেই আগামী সপ্তাহে একটি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অংশগ্রহণ “উপযুক্ত” নাও হতে পারে। তিনি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করে বলেছেন, এটি তাদের “নিজস্ব জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ” হতে পারে।

ইরানের অবস্থান ও আগের বক্তব্য
ইরান আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দলটি “নিশ্চিতভাবেই” অংশ নেবে না।
এরপর মার্চে ইরান ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করে, যাতে তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়া যায়। উল্লেখ্য, এই বিশ্বকাপটি যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তবে ফিফা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
রাজনীতির বাইরে খেলাধুলা রাখার আহ্বান
ইনফান্তিনো জোর দিয়ে বলেন, খেলাধুলাকে রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় আসর আন্তর্জাতিক ঐক্য ও বন্ধুত্বের প্রতীক হওয়া উচিত।

ম্যাচ ভেন্যু ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা
সূচি অনুযায়ী, ইরান তাদের দুটি গ্রুপ ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে। আরেকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিয়াটলে। যুক্তরাষ্ট্র ভিন্ন গ্রুপে থাকায়, দুটি দল মুখোমুখি হতে পারে কেবল তখনই, যদি তারা পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়।
ইতিহাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ
বিশ্বকাপে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের ইতিহাসও বেশ স্মরণীয়। ১৯৯৮ সালে ইরান ২-১ গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে তাদের প্রথম বিশ্বকাপ জয় তুলে নেয়, যা তেহরানে ব্যাপক উদযাপনের জন্ম দেয়। আর ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোতে ওঠে, যা ছিল অত্যন্ত নাটকীয় একটি ম্যাচ।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















