ছোট শহরের দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে নিজের পরিশ্রম আর প্রযুক্তির হাত ধরে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন এক যুবক। সারাক্ষণ রিপোর্ট জানাচ্ছে, একসময় যিনি মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে কাপড় সেলাই করতেন, এখন তিনি মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করছেন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছে দিচ্ছেন।
শৈশব থেকেই সংগ্রাম
মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট শহরে জন্ম নেওয়া এই যুবকের শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে। পরিবারের আয় বাড়াতে খুব ছোট বয়স থেকেই কাজ শুরু করেন। পাশের এক দর্জির কাছে বসে বসে তিনি বোতাম লাগানো, সেলাই করা শিখে ফেলেন। স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ৫ থেকে ১০ টাকার বিনিময়ে কাপড় সেলাই করে উপার্জন করতেন।
শুধু সেলাই নয়, নানা কাজ
অর্থ উপার্জনের তাগিদে তিনি থেমে থাকেননি। ক্যামেরাম্যানের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, শিখেছেন আলো ও ক্যামেরার কাজ। নতুন কিছু শেখার আগ্রহই ছিল তার বড় শক্তি।
কম্পিউটারের সঙ্গে প্রথম পরিচয়
জীবনের বড় মোড় আসে যখন তার শহরে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়। তিনি সেখানে ভর্তি হন এবং শুধু কম্পিউটার চালানোই নয়, মেরামতের কাজও শেখেন। এই দক্ষতাই তাকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে দেয়।

প্রথম ব্যবসা ও ব্যর্থতা
বন্ধুর সঙ্গে মিলে একটি সাইবার ক্যাফে ও কম্পিউটার মেরামতের দোকান খোলেন। কিন্তু আর্থিক সমস্যার কারণে ব্যবসাটি এক বছরের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। ঋণের চাপ বাড়ে, কিন্তু তিনি থামেননি।
চাকরি থেকে নতুন শিক্ষা
পরে অন্য শহরে গিয়ে একটি চাকরি নেন। সেখানে তিনি ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই সময়ই তার মধ্যে আবার উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা জাগে।
দ্বিতীয়বার শুরু, এবার সফলতা
নিজ শহরে ফিরে এসে নতুন করে ব্যবসা শুরু করেন। এবার তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রযুক্তি পরিষেবার দিকে মন দেন। ধীরে ধীরে ব্যবসা সফল হতে থাকে।
ইন্টারনেট ব্যবসায় বড় সাফল্য
পরবর্তীতে তিনি বেতার ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল এমন সব প্রত্যন্ত এলাকা, যেখানে ইন্টারনেট পৌঁছায় না। পাহাড়ি অঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় তার প্রতিষ্ঠান এখন ইন্টারনেট পৌঁছে দিচ্ছে।
মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার স্বপ্ন
তার এই উদ্যোগের ফলে অনেক স্কুল, হাসপাতাল ও গ্রামীণ এলাকা প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জীবন সহজ হয়েছে।
আয়ের নতুন উচ্চতা
বর্তমানে তিনি মাসে প্রায় ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তবে তার কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















