১১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য রঘু রাইয়ের ক্যামেরা ছিল শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এক ধরনের জীবনদর্শন ট্রাম্পের কঠোর আশ্রয়নীতি কি স্থায়ী রূপ নিচ্ছে? যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ঘিরে বিতর্ক, সমালোচনায় রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ নিউইয়র্কে আবাসন নির্মাণে বড় বাধা কমছে, বদলে যেতে পারে শহরের ভবিষ্যৎ ট্রাম্পের প্রতিশোধ রাজনীতি নিয়ে চাপে রিপাবলিকানরা ট্রাম্প-শি বৈঠকে বাণিজ্যের হাসি, আড়ালে তাইওয়ান-ইউক্রেন-ইরান উত্তেজনা ব্রিটিশ রাজনীতির নেতৃত্ব সংকট: জনপ্রিয়তার লড়াই নয়, বাস্তবতার পরীক্ষা লন্ডনে টমি রবিনসন ঘিরে উত্তেজনা, ফিলিস্তিনপন্থী পাল্টা বিক্ষোভে কড়া নিরাপত্তা জাকার্তার ‘সামতামা ভিলেজ’: বর্জ্য আলাদা করেই কমছে ল্যান্ডফিলে চাপ

খুশি নারীদের কেন টার্গেট করা হয়? অনলাইন বিষাক্ততার বিরুদ্ধে সরব হানিয়া আমির

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচকতা ও নারীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন। দীর্ঘ নীরবতার পর এক খোলামেলা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সমাজে এখনও এমন এক মানসিকতা কাজ করে যেখানে আত্মবিশ্বাসী ও আনন্দিত নারীদের সহজে মেনে নেওয়া হয় না।

নীরবতা ভেঙে সরাসরি বার্তা

কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিতর্কের পর নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন হানিয়া। সেই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে। এমনকি নিজেকে বদলে ফেলার প্রয়োজন আছে কিনা সেটিও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি উপলব্ধি করেন, সমস্যাটা তার মধ্যে নয়, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সমস্যা।

পুরনো মানসিকতা, নতুন প্ল্যাটফর্ম

হানিয়া মনে করেন, “মানুষ কী বলবে” ধরনের চিন্তা নতুন কিছু নয়, বরং এটি পুরনো মানসিকতারই আধুনিক রূপ। আগে যেমন মানুষ গায়ের রং, শরীর বা চেহারা নিয়ে মন্তব্য করত, এখনো সেই একই কাজ হচ্ছে—শুধু মাধ্যম বদলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে, কারণ এখানে অপরিচিত মানুষেরাও সহজে মন্তব্য করতে পারে।

নারীদের তুলনা ও দ্বৈত মানদণ্ড

নারীদের মধ্যে তুলনা তৈরি করার প্রবণতাকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন তিনি। ভাইরাল হওয়া নানা পোস্টে নারীদের একে অপরের সঙ্গে তুলনা করা হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না—এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, এটি সমাজের গভীরভাবে গেঁথে থাকা বৈষম্যেরই প্রতিফলন।

Hania Aamir on People Hating Successful & Happy Women | Reviewit.pk

আত্মসমালোচনার আহ্বান

নারীদের প্রতি নারীদের সমালোচনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন হানিয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো নারীকে কি তার সাফল্যের কারণে অপছন্দ করা হচ্ছে, নাকি সে নিজের মতো করে বাঁচছে বলেই তাকে বিচার করা হচ্ছে? এই ধরনের আচরণ সমাজে নারীদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে বলেও তিনি মনে করেন।

নিজের মতো থাকার অধিকার

সবশেষে তিনি সকলকে আহ্বান জানান, ভিন্নতা মেনে নিয়ে সহাবস্থানের চর্চা করতে। তার মতে, কাউকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। নারীরা যেমন, তেমনভাবেই বাঁচতে চাইলে সেটি কেন এত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঈদের পোশাক নিয়েও বিতর্ক

সম্প্রতি ঈদে তার পরা শাড়ি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাদা-লাল রঙের শাড়ি ও স্বাভাবিক সাজে হাজির হওয়ায় অনেকেই সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই ঘটনাও প্রমাণ করে, নারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়েও সমাজ কতটা কঠোর বিচার করে।

খুশি, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের মতো থাকা—এই তিনটি বিষয়ই যেন আজকের সমাজে নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন হানিয়া আমির।

খুশি নারীদের প্রতি সমাজের বিদ্বেষ ও অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে হানিয়া আমিরের খোলামেলা মন্তব্য, যা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলের ধাক্কা শুধু যুদ্ধের নয়, নীতিহীনতারও মূল্য

খুশি নারীদের কেন টার্গেট করা হয়? অনলাইন বিষাক্ততার বিরুদ্ধে সরব হানিয়া আমির

০৪:০০:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নেতিবাচকতা ও নারীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর সংস্কৃতি নিয়ে সরব হয়েছেন। দীর্ঘ নীরবতার পর এক খোলামেলা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সমাজে এখনও এমন এক মানসিকতা কাজ করে যেখানে আত্মবিশ্বাসী ও আনন্দিত নারীদের সহজে মেনে নেওয়া হয় না।

নীরবতা ভেঙে সরাসরি বার্তা

কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বিতর্কের পর নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়েছিলেন হানিয়া। সেই অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, একসময় তিনি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে। এমনকি নিজেকে বদলে ফেলার প্রয়োজন আছে কিনা সেটিও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি উপলব্ধি করেন, সমস্যাটা তার মধ্যে নয়, বরং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সমস্যা।

পুরনো মানসিকতা, নতুন প্ল্যাটফর্ম

হানিয়া মনে করেন, “মানুষ কী বলবে” ধরনের চিন্তা নতুন কিছু নয়, বরং এটি পুরনো মানসিকতারই আধুনিক রূপ। আগে যেমন মানুষ গায়ের রং, শরীর বা চেহারা নিয়ে মন্তব্য করত, এখনো সেই একই কাজ হচ্ছে—শুধু মাধ্যম বদলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে, কারণ এখানে অপরিচিত মানুষেরাও সহজে মন্তব্য করতে পারে।

নারীদের তুলনা ও দ্বৈত মানদণ্ড

নারীদের মধ্যে তুলনা তৈরি করার প্রবণতাকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন তিনি। ভাইরাল হওয়া নানা পোস্টে নারীদের একে অপরের সঙ্গে তুলনা করা হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে এমনটা দেখা যায় না—এই দ্বৈত মানদণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, এটি সমাজের গভীরভাবে গেঁথে থাকা বৈষম্যেরই প্রতিফলন।

Hania Aamir on People Hating Successful & Happy Women | Reviewit.pk

আত্মসমালোচনার আহ্বান

নারীদের প্রতি নারীদের সমালোচনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন হানিয়া। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো নারীকে কি তার সাফল্যের কারণে অপছন্দ করা হচ্ছে, নাকি সে নিজের মতো করে বাঁচছে বলেই তাকে বিচার করা হচ্ছে? এই ধরনের আচরণ সমাজে নারীদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে বলেও তিনি মনে করেন।

নিজের মতো থাকার অধিকার

সবশেষে তিনি সকলকে আহ্বান জানান, ভিন্নতা মেনে নিয়ে সহাবস্থানের চর্চা করতে। তার মতে, কাউকে নিজের মতো থাকতে দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। নারীরা যেমন, তেমনভাবেই বাঁচতে চাইলে সেটি কেন এত অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়—এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ঈদের পোশাক নিয়েও বিতর্ক

সম্প্রতি ঈদে তার পরা শাড়ি নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সাদা-লাল রঙের শাড়ি ও স্বাভাবিক সাজে হাজির হওয়ায় অনেকেই সেটিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। এই ঘটনাও প্রমাণ করে, নারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়েও সমাজ কতটা কঠোর বিচার করে।

খুশি, আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের মতো থাকা—এই তিনটি বিষয়ই যেন আজকের সমাজে নারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই বাস্তবতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন হানিয়া আমির।

খুশি নারীদের প্রতি সমাজের বিদ্বেষ ও অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে হানিয়া আমিরের খোলামেলা মন্তব্য, যা নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।