সুন্দরবনের বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মণির ঘোল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ডের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন।
কোস্টগার্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একদল দুর্বৃত্ত আকস্মিকভাবে স্টেশনটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলার সময় কর্তব্যরত সদস্যদের ওপরও আক্রমণ করা হয়, ফলে কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হামলার কারণ খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযান
কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও চলছে।
বাহিনীটির দাবি, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও অপরাধী চক্র পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কোস্টগার্ডকে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া, যাতে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারে।
বনদস্যু দমনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা?
কোস্টগার্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে বনদস্যু দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন অভিযানের সাফল্যে বাধা সৃষ্টি করতেই এই হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বাহিনীটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে তারা বনদস্যু ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে, যার ফলে এসব গোষ্ঠীর কার্যক্রম অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে জয়মণির ঘোল এলাকা দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের পর অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র, রসদ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসব গোষ্ঠী কোস্টগার্ডের উপস্থিতি মেনে নিতে পারছে না বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
স্থানীয়দের সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অন্য একটি সূত্রের দাবি, জয়মণির ঘোল এলাকার কিছু স্থানীয় নারী-পুরুষ ছোট নৌকায় করে কোস্টগার্ড স্টেশনের দিকে গিয়ে একটি কোস্টগার্ড জাহাজে হামলা চালায়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য কোনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও বন বিভাগের বক্তব্য
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কোস্টগার্ড একটি লিখিত অভিযোগ প্রস্তুত করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কোস্টগার্ড স্টেশনটি একটি স্থানীয় বসতির কাছাকাছি অবস্থিত। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, কোনো অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য বা ষড়যন্ত্র তাদের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনদস্যু দমন এবং উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সুন্দরবনে কোস্টগার্ড স্টেশনে হামলায় একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে।
#সুন্দরবন #কোস্টগার্ড #মোংলা #বাগেরহাট #হারবারিয়া #বনদস্যু #বাংলাদেশ #আইনশৃঙ্খলা #নিরাপত্তা #সংবাদ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















