খুলনার সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালকর্মীদের মধ্যে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন লাগার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দ্রুত হাসপাতাল ভবনের বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে আগুন লাগার পরও কিছু মানুষ হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমেও সতর্কতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান।
আগুনের সূত্রপাত কোথায়
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, একটি জেনারেটর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে বিস্তার লাভ করে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন হবে।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটের দিকে হাসপাতালের নিচতলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরে আরও ইউনিট যোগ করা হয়। একপর্যায়ে মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকলেও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
হতাহতের তথ্য মেলেনি
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হচ্ছে। রাত ১১টা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ব্যাপক উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে হাসপাতাল এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের সহায়তা
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন তারা।
হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আগুনের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। রাতভর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।
#খুলনা #খুলনাসিটিমেডিকেল #অগ্নিকাণ্ড #ফায়ারসার্ভিস #হাসপাতালআগুন #খবর #বাংলাদেশ #সারাক্ষণ #BreakingNews #KhulnaNews
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















