ইন্দোনেশিয়ার আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্প জাদুঘর মিউজিয়াম ম্যাকানে এই মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় পালারি ফিল্মসের ১০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান, যার নাম ছিল ‘এক দশকের যাত্রা’। এই আয়োজনে দেশের শীর্ষ অভিনেতা, নির্মাতা ও শিল্পীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী ও প্রযোজক দিয়ান সাস্ত্রোওয়ার্দোয়োকে দেখা যায় অভিজ্ঞ চলচ্চিত্র প্রচারক নাজিরা সি. নোয়ের সঙ্গে আলাপ করতে। একই জায়গায় ছিলেন সংগীতশিল্পী বাসকারা পুত্র, অভিনেতা ইকবাল রামাধান এবং অভিনেত্রী র্যাচেল আমান্ডা। নির্মাতা রিরি রিজা ও মিরা লেসমানাও উপস্থিত ছিলেন।
গত দশকের কাজগুলো পুনরায় তুলে ধরার পাশাপাশি পালারি ফিল্মস তাদের ভবিষ্যৎ প্রকল্পের তালিকাও প্রকাশ করে, যা আরও বড় বাজেটের সিনেমা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।
যাত্রার গল্প
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন পালারি ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রযোজক মেইস্কে টাউরিসিয়া, মুহাম্মদ জায়েদি এবং পরিচালক-চিত্রনাট্যকার এডউইন। তারা গত দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।
মেইস্কে বলেন, এই দশ বছর যেন চোখের পলকে কেটে গেছে। এই সময়টা ছিল নিজেদের ভিত্তি গড়ে তোলা এবং চলচ্চিত্র জগতে বিশ্বাস অর্জনের সময়। তিনি দর্শক, গণমাধ্যম, সহকর্মী ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এডউইন বলেন, সিনেমা তৈরি করা কঠিন, আর প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা এই কাজে নিবেদিত থাকা আরও কঠিন। তবে এই পথেই তিনি ব্যক্তি হিসেবে অনেক পরিবর্তন ও শিক্ষা পেয়েছেন।
গত দশকে পালারি ফিল্মস সাতটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘পসেসিভ’, ‘আরুনা অ্যান্ড হার প্যালেট’, ‘ভেঞ্জেন্স ইজ মাইন, অল আদার্স পে ক্যাশ’, ‘আলি অ্যান্ড দ্য কুইন্স’, ‘ডিয়ার ডেভিড’, ‘বর্ডারলেস ফগ’ এবং ‘দ্য রিডেম্পশন অব সিন’। এছাড়া তারা স্বল্পদৈর্ঘ্য সংকলন ও একটি অনলাইন সিরিজও তৈরি করেছে।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিজের অবস্থান শক্ত করেছে। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে যখন ‘ভেঞ্জেন্স ইজ মাইন, অল আদার্স পে ক্যাশ’ চলচ্চিত্রটি লোকর্ণো চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লেপার্ড পুরস্কার জেতে, যা ইন্দোনেশিয়ার জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন।
এডউইনের মতে, এই যাত্রা একক নয়, বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, একা কাজ করলে সিনেমা নির্মাণ অনেক সময় নিঃসঙ্গ মনে হয়, কিন্তু পালারি ফিল্মস যেন একটি জাহাজ, যা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে এবং একসঙ্গে শেখার সুযোগ দেয়।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
আগামী দিনে পালারি ফিল্মস নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের প্রথম দশকের কাজ সংরক্ষণ করতে চায়। তারা একটি বই ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট স্মারক সংগ্রহ প্রকাশের পরিকল্পনাও করছে।
জায়েদি জানান, দশ বছরের মাইলফলক পেরিয়ে তারা এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য প্রস্তুত।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘স্লিপ নো মোর’, ‘ডিসেম্বর জানি’, ‘বাজু তেবাল’, ‘গোল্ডফিশ’, ‘আই ওয়ানা ডান্স উইথ মাইসেলফ’, ‘স্ট্রেঞ্জ রুট’ এবং একটি জনপ্রিয় সংগীত অ্যালবাম অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র।
এর মধ্যে ‘স্লিপ নো মোর’ আগামী ৪ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে অভিনয় করেছেন র্যাচেল আমান্ডা, লুটেশা, ইকবাল রামাধানসহ আরও অনেকে।
অভিনেত্রী লুটেশা বলেন, এডউইনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্নধর্মী, তবে সহযোগিতামূলক। দীর্ঘ সময় ধরে চিত্রনাট্য পড়া ও আলোচনা করার সুযোগ ছিল, যা তাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্য দিয়েছে।
ইকবাল রামাধান জানান, এডউইনের সঙ্গে কাজ করা তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এবং এই প্রকল্পে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন।
আগামী দশকের দৃষ্টি
২০৩৬ সালে পালারি ফিল্মস কোথায় থাকবে—এই প্রশ্নে মেইস্কে আশাবাদী হলেও সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন, কারণ এখনও অনেক গল্প বলার বাকি রয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন প্রতিভার আগমন ও বৈচিত্র্য তাকে আশাবাদী করে তুলেছে।
এডউইন মনে করেন, ইন্দোনেশিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পে প্রচুর প্রতিভা রয়েছে, তবে সেগুলো ধরে রাখতে আরও শক্তিশালী কাঠামো প্রয়োজন। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা না করলে এই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিল্পকে টেকসই করতে হলে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















