০৫:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর রিহ্যাবের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত, সভাপতি আলী আফজাল “১০ বছর ধরে ট্রোলের শিকার”—বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ব্যক্তি দাবি মেগান মার্কলের জ্বালানির দাম বাড়ানো অনিবার্য: বৈশ্বিক চাপের মুখে সরকারের সিদ্ধান্ত চীনের NIO সারা বিশ্বে ব্যাটারি সোয়াপ স্টেশন বসাচ্ছে — বৈদ্যুতিক গাড়ির নতুন যুগ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া বিল ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, সংসদে জানালেন মন্ত্রী আটলেটিকো ১০ জনের বার্সেলোনাকে হারাল ২-০ — চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টারফাইনালে চমক এস আলম বিতর্কে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে কোনো প্রভাব নেই, সংসদে মুকতাদিরের ব্যাখ্যা এক মাসে দুই দফা বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৯৪০ টাকা সৌদিতে রিয়াদে পাঁচ বছর ভাড়া বাড়বে না — প্রবাসীদের জন্য বড় সুখবর

নারীর গল্পকে কেন পিছনে রাখা হচ্ছে: পাকিস্তানের বিনোদন জগতের অদৃশ্য বৈষম্যের গল্প

  • Sarakhon Report
  • ০১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 19

পাকিস্তানের বিনোদন জগতে নারীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও মন্তব্য ঘিরে উঠে এসেছে এক দীর্ঘদিনের বাস্তবতা—এই ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সমান সুযোগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। অনেক সময় বিষয়টি প্রকাশ পায় ঠাট্টা, মন্তব্য বা তথাকথিত ‘সৎ কথা’র আড়ালে, কিন্তু এর প্রভাব থাকে গভীর।

‘মজা’ না কি আড়ালে আঘাত

সম্প্রতি একটি আলোচনায় নারী শিল্পীরা বয়স ও চরিত্র বাছাইয়ের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তার জবাবে ব্যক্তিগত মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়, মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া কতটা সহজ।

এই ধরনের ‘মজার মন্তব্য’ আসলে একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। এতে যারা আঘাত করে তারা দায় এড়াতে পারে, আর যিনি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি একা পড়ে যান।

Changing the system

‘পেশাদার মতামত’ নামে পক্ষপাত

পাকিস্তানের বিনোদন দুনিয়ায় প্রায়ই শোনা যায়—কোনো অভিনেত্রী ‘নায়িকা হওয়ার মতো নয়’ বা ‘বয়স হয়ে গেছে’। এসব মন্তব্যকে আবার ‘পেশাদার মূল্যায়ন’ বলা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মানদণ্ড সবসময় নারীদের ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। পুরুষ অভিনেতারা অনেক বেশি বয়সেও প্রধান চরিত্রে থাকেন, অথচ নারীদের ক্ষেত্রে বয়স যেন এক বড় বাধা।

বাজারের অজুহাত, বাস্তবতা ভিন্ন

ইন্ডাস্ট্রির একটি সাধারণ যুক্তি হলো—দর্শক নাকি এমন গল্প পছন্দ করেন না যেখানে বয়সী নারী প্রধান চরিত্রে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

পাকিস্তানের অনেক নাটক ও ধারাবাহিকে শক্তিশালী নারী চরিত্র দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মানে দর্শক প্রস্তুত, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি সেই সুযোগ দিতে আগ্রহী নয়।

পুরনো ধারা থেকে সরে যাওয়ার অনীহা

একসময় পাকিস্তানের টেলিভিশন নাটকে নারী চরিত্রই ছিল গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গা বদলেছে। এখন অনেক গল্পেই নারীরা পার্শ্বচরিত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছেন।

এই পরিবর্তন দর্শকের কারণে নয়, বরং নির্মাতাদের সিদ্ধান্তের ফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Changing the system

বিশ্বমঞ্চে ভিন্ন চিত্র

ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের বিনোদন জগতে ইতোমধ্যেই বড় পরিবর্তন এসেছে। সেখানে বয়সী নারী চরিত্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ভূমিকা পাচ্ছে।

এই উদাহরণগুলো দেখিয়ে দেয়, পরিবর্তন সম্ভব—যদি ইন্ডাস্ট্রি সেই সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

পরিবর্তনের পথ কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তন আনতে হলে প্রথমেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু সহায়ক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং গল্পের চালিকাশক্তি হিসেবে তাদের তুলে ধরতে হবে।

এছাড়া, যারা নারীদের হেয় করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চান, তাদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

শেষ কথা

পাকিস্তানের বিনোদন জগত আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। একই ধারা ধরে রাখবে, নাকি নতুন পথ বেছে নেবে—এই সিদ্ধান্ত এখন নির্মাতাদের হাতেই।

দর্শক নতুন গল্প দেখতে প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, যা নারীদের তাদের প্রাপ্য জায়গা ফিরিয়ে দেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধেই উন্মোচিত ব্রিটেনের দুর্বল সামরিক শক্তি, চাপ বাড়ছে স্টারমারের ওপর

নারীর গল্পকে কেন পিছনে রাখা হচ্ছে: পাকিস্তানের বিনোদন জগতের অদৃশ্য বৈষম্যের গল্প

০১:০০:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

পাকিস্তানের বিনোদন জগতে নারীদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও মন্তব্য ঘিরে উঠে এসেছে এক দীর্ঘদিনের বাস্তবতা—এই ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের জন্য সমান সুযোগ এখনো নিশ্চিত হয়নি। অনেক সময় বিষয়টি প্রকাশ পায় ঠাট্টা, মন্তব্য বা তথাকথিত ‘সৎ কথা’র আড়ালে, কিন্তু এর প্রভাব থাকে গভীর।

‘মজা’ না কি আড়ালে আঘাত

সম্প্রতি একটি আলোচনায় নারী শিল্পীরা বয়স ও চরিত্র বাছাইয়ের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে, তার জবাবে ব্যক্তিগত মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়া হয়। এতে স্পষ্ট হয়, মূল সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দেওয়া কতটা সহজ।

এই ধরনের ‘মজার মন্তব্য’ আসলে একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। এতে যারা আঘাত করে তারা দায় এড়াতে পারে, আর যিনি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি একা পড়ে যান।

Changing the system

‘পেশাদার মতামত’ নামে পক্ষপাত

পাকিস্তানের বিনোদন দুনিয়ায় প্রায়ই শোনা যায়—কোনো অভিনেত্রী ‘নায়িকা হওয়ার মতো নয়’ বা ‘বয়স হয়ে গেছে’। এসব মন্তব্যকে আবার ‘পেশাদার মূল্যায়ন’ বলা হয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই মানদণ্ড সবসময় নারীদের ক্ষেত্রেই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। পুরুষ অভিনেতারা অনেক বেশি বয়সেও প্রধান চরিত্রে থাকেন, অথচ নারীদের ক্ষেত্রে বয়স যেন এক বড় বাধা।

বাজারের অজুহাত, বাস্তবতা ভিন্ন

ইন্ডাস্ট্রির একটি সাধারণ যুক্তি হলো—দর্শক নাকি এমন গল্প পছন্দ করেন না যেখানে বয়সী নারী প্রধান চরিত্রে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

পাকিস্তানের অনেক নাটক ও ধারাবাহিকে শক্তিশালী নারী চরিত্র দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে। এর মানে দর্শক প্রস্তুত, কিন্তু ইন্ডাস্ট্রি সেই সুযোগ দিতে আগ্রহী নয়।

পুরনো ধারা থেকে সরে যাওয়ার অনীহা

একসময় পাকিস্তানের টেলিভিশন নাটকে নারী চরিত্রই ছিল গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গা বদলেছে। এখন অনেক গল্পেই নারীরা পার্শ্বচরিত্রে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছেন।

এই পরিবর্তন দর্শকের কারণে নয়, বরং নির্মাতাদের সিদ্ধান্তের ফল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Changing the system

বিশ্বমঞ্চে ভিন্ন চিত্র

ভারত ও পশ্চিমা বিশ্বের বিনোদন জগতে ইতোমধ্যেই বড় পরিবর্তন এসেছে। সেখানে বয়সী নারী চরিত্রগুলোও গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী ভূমিকা পাচ্ছে।

এই উদাহরণগুলো দেখিয়ে দেয়, পরিবর্তন সম্ভব—যদি ইন্ডাস্ট্রি সেই সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

পরিবর্তনের পথ কোথায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবর্তন আনতে হলে প্রথমেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। শুধু সহায়ক চরিত্র হিসেবে নয়, বরং গল্পের চালিকাশক্তি হিসেবে তাদের তুলে ধরতে হবে।

এছাড়া, যারা নারীদের হেয় করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চান, তাদের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

শেষ কথা

পাকিস্তানের বিনোদন জগত আজ এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। একই ধারা ধরে রাখবে, নাকি নতুন পথ বেছে নেবে—এই সিদ্ধান্ত এখন নির্মাতাদের হাতেই।

দর্শক নতুন গল্প দেখতে প্রস্তুত। এখন প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, যা নারীদের তাদের প্রাপ্য জায়গা ফিরিয়ে দেবে।