অর্থনৈতিক চাপে থাকা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। সৌদি আরব থেকে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা পাওয়ায় দেশের বাহ্যিক অর্থনৈতিক অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল এই অর্থ পাকিস্তানের হিসাবে জমা হয়েছে। এতে রিজার্ভে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং চলমান অর্থনৈতিক চাপে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।
মধ্যপ্রাচ্য সফর ও কূটনৈতিক তৎপরতা
এ সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে তিনি জেদ্দায় সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সৌদি আরবের ধারাবাহিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থনও প্রকাশ করেন তিনি। পাকিস্তানের জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে বলেও জানান।

অতিরিক্ত সহায়তার প্রতিশ্রুতি
এর আগেই পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দেন, সৌদি আরব আরও ৩০০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা শিগগিরই ছাড় করা হতে পারে। পাশাপাশি আগের ৫০০ কোটি ডলারের আমানত আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নবায়ন করা হয়েছে।
এতে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চাপের মুখে অর্থনীতি
চলতি মাসেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হবে পাকিস্তানকে, যা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মার্চের শেষ দিকে দেশটির রিজার্ভ ছিল প্রায় ১৬৪০ কোটি ডলার।
আন্তর্জাতিক ঋণ কর্মসূচির অধীনে জুনের মধ্যে রিজার্ভ ১৮০০ কোটি ডলারের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগের সহায়তা ও স্থিতিশীলতা
অর্থনৈতিক সংকটের সময় সৌদি আরব অতীতেও একাধিকবার পাকিস্তানকে সহায়তা দিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটি ৬০০ কোটি ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে নগদ আমানত ও তেল সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার প্রধান জানিয়েছেন, কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে পাকিস্তান সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















