০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

লোকসভা আসন ৫০% বাড়বে, কোনো রাজ্যের শক্তি কমবে না—কেন্দ্রের বড় আশ্বাস

ভারতের লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্র সরকার বড় আশ্বাস দিয়েছে—সব রাজ্যের লোকসভা আসন প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে এবং কোনো রাজ্যই সংসদে তাদের বর্তমান অনুপাতিক শক্তি হারাবে না।

বুধবার এক শীর্ষ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনী ও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবেন। প্রয়োজনে খসড়া বিলের ভাষায় সংশোধনও আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সব রাজ্যের জন্য সমান হারে বৃদ্ধি

সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা বর্তমান অনুপাত অনুযায়ী সব রাজ্যের মধ্যে ভাগ করা হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি রাজ্যের বিদ্যমান আসনের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর বর্তমান ৩৯টি আসন বেড়ে ৫৮ হতে পারে এবং কেরালার ২০টি আসন বেড়ে ৩০-এ পৌঁছাতে পারে। এই সূত্রে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই।

INDIA Bloc unites to oppose the Delimitation Bill - The Hindu

খসড়া বিল নিয়ে বিভ্রান্তি

তবে সরকারের এই আশ্বাস সত্ত্বেও খসড়া বিলের কিছু অংশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেখানে রাজ্যগুলোর মধ্যে আসন পুনর্বণ্টনের প্রস্তাব থাকায় অনেকের আশঙ্কা—জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলো আপেক্ষিক শক্তি হারাতে পারে।

সরকারি সূত্র এই আশঙ্কাকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, খসড়ার কিছু অংশ আলাদা করে দেখলে বিভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনায় কোনো রাজ্যের শক্তি কমানোর বিষয় নেই।

সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রতিশ্রুতি

এই প্রশ্ন উঠেছে যে, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব ও ডিলিমিটেশন বিলের বিধান কীভাবে সরকারের এই আশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর জবাবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া এবং গণনার পদ্ধতি সংসদের আলোচনায় স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে।

সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—সব রাজ্যের আসন বাড়বে, তবে সেই বৃদ্ধি হবে বিদ্যমান অনুপাত বজায় রেখে। ফলে কোনো অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রভাব কমবে না বলেই দাবি কেন্দ্রের।

Government introduces three delimitation bills in Lok Sabha

জনসংখ্যা ও প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য

ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণত সর্বশেষ জনগণনার তথ্য অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি এমন রাজ্যগুলো তুলনামূলক বেশি আসন পেতে পারে—এই বাস্তবতা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

তবে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক আশ্বাসে এই আশঙ্কা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সংসদের আলোচনায় বিষয়টি কতটা পরিষ্কার হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

ভারতের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

লোকসভা আসন ৫০% বাড়বে, কোনো রাজ্যের শক্তি কমবে না—কেন্দ্রের বড় আশ্বাস

১১:৪৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে কেন্দ্র সরকার বড় আশ্বাস দিয়েছে—সব রাজ্যের লোকসভা আসন প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়বে এবং কোনো রাজ্যই সংসদে তাদের বর্তমান অনুপাতিক শক্তি হারাবে না।

বুধবার এক শীর্ষ সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধনী ও ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা শুরু হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করবেন। প্রয়োজনে খসড়া বিলের ভাষায় সংশোধনও আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সব রাজ্যের জন্য সমান হারে বৃদ্ধি

সরকারি সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং তা বর্তমান অনুপাত অনুযায়ী সব রাজ্যের মধ্যে ভাগ করা হবে। অর্থাৎ, প্রতিটি রাজ্যের বিদ্যমান আসনের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুর বর্তমান ৩৯টি আসন বেড়ে ৫৮ হতে পারে এবং কেরালার ২০টি আসন বেড়ে ৩০-এ পৌঁছাতে পারে। এই সূত্রে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, কোনো রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই।

INDIA Bloc unites to oppose the Delimitation Bill - The Hindu

খসড়া বিল নিয়ে বিভ্রান্তি

তবে সরকারের এই আশ্বাস সত্ত্বেও খসড়া বিলের কিছু অংশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। সেখানে রাজ্যগুলোর মধ্যে আসন পুনর্বণ্টনের প্রস্তাব থাকায় অনেকের আশঙ্কা—জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণের রাজ্যগুলো আপেক্ষিক শক্তি হারাতে পারে।

সরকারি সূত্র এই আশঙ্কাকে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, খসড়ার কিছু অংশ আলাদা করে দেখলে বিভ্রান্তি হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক পরিকল্পনায় কোনো রাজ্যের শক্তি কমানোর বিষয় নেই।

সংসদে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রতিশ্রুতি

এই প্রশ্ন উঠেছে যে, সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব ও ডিলিমিটেশন বিলের বিধান কীভাবে সরকারের এই আশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর জবাবে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া এবং গণনার পদ্ধতি সংসদের আলোচনায় স্পষ্ট করে তুলে ধরা হবে।

সরকারের অবস্থান স্পষ্ট—সব রাজ্যের আসন বাড়বে, তবে সেই বৃদ্ধি হবে বিদ্যমান অনুপাত বজায় রেখে। ফলে কোনো অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রভাব কমবে না বলেই দাবি কেন্দ্রের।

Government introduces three delimitation bills in Lok Sabha

জনসংখ্যা ও প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য

ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় সাধারণত সর্বশেষ জনগণনার তথ্য অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়। এতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি এমন রাজ্যগুলো তুলনামূলক বেশি আসন পেতে পারে—এই বাস্তবতা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।

তবে কেন্দ্রের সাম্প্রতিক আশ্বাসে এই আশঙ্কা অনেকটাই প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সংসদের আলোচনায় বিষয়টি কতটা পরিষ্কার হয়, সেটাই দেখার বিষয়।

ভারতের রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।