পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন করে বাড়ালেন বিজেপির শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বাংলা নববর্ষের দিনে এক অনুষ্ঠানে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে ‘আরবি সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রাজ্যকে ‘বাংলা হিন্দুদের আবাসভূমি’ হিসেবে রক্ষা করতে তাদের দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলা নববর্ষে রাজনৈতিক বার্তা
বাংলা নববর্ষের সূচনায় ‘মাতৃ শক্তি ভরসা কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার ধীরে ধীরে বাংলার সাংস্কৃতিক চরিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে এমন এক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে যা বাংলার ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির জায়গায় উর্দু ভাষা এবং এমন এক সামাজিক রীতিনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যেখানে নারীদের স্বাধীনতা সীমিত হয়ে পড়ছে। তাঁর মতে, এই প্রবণতা বাংলার বহুদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য হুমকি।

‘সনাতন ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ’—অভিযোগ বিজেপির
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূল সরকারের নীতির ফলে রাজ্যের ‘সনাতন ঐতিহ্য’ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির যে গৌরবময় ধারাবাহিকতা রয়েছে, তা রক্ষার জন্য বিজেপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ প্রয়োজন, যেখানে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
‘সঙ্কল্প পত্র’ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা
অনুষ্ঠানে বিজেপির ‘সঙ্কল্প পত্র’ বা ইশতেহারের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এটিকে ‘বিশ্বাসের দলিল’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আবার দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তাঁর দাবি, এই ইশতেহার শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলার হারানো মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি রূপরেখা।

রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মাত্রা
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করতে পারে। সংস্কৃতি, ভাষা এবং পরিচয়ের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্য আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ইস্যুগুলি আরও বেশি করে সামনে আসবে এবং তা ভোটের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















