০১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
হামে এ বছর ১৭৯ শিশুর মৃত্যু, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, হাসপাতালে আজও সারি সারি অসুস্থ শিশু ইউসিসি চাপিয়ে দিলে আদিবাসী পরিচয় মুছে যাবে, মানব না: বিনপুরে লড়াইয়ে বিরবাহা হাঁসদার বার্তা পয়লা বৈশাখে মাছের রাজনীতি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে সংস্কৃতি আর প্রচারের অদ্ভুত মেলবন্ধন ক্যানসার চিকিৎসায় বড় স্বস্তি? ২০২৮-এ পেটেন্ট শেষ, দুই বছরের মধ্যে সস্তা ‘কিট্রুডা’ আসার আশা দুবাইয়ে বৈশাখী উৎসবে ভক্তদের ঢল, একাত্মতা আর সেবার বার্তায় মুখর গুরু নানক দরবার গুরুদ্বার পশ্চিমবঙ্গে ‘আরবি সংস্কৃতি চাপানোর’ অভিযোগ, বাংলা নববর্ষে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর তামিলনাড়ুতে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের ইঙ্গিত, ঐক্যের ডাক কংগ্রেস-ডিএমকের লোকসভা সীমানা পুনর্বিন্যাসে ‘গেরিম্যান্ডারিং’ অভিযোগ, নারীর সংরক্ষণ নিয়েও তীব্র আক্রমণ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা—কেন এই সংকীর্ণ জলপথ এত গুরুত্বপূর্ণ লোকসভা আসন ৫০% বাড়বে, কোনো রাজ্যের শক্তি কমবে না—কেন্দ্রের বড় আশ্বাস

ক্যানসার চিকিৎসায় বড় স্বস্তি? ২০২৮-এ পেটেন্ট শেষ, দুই বছরের মধ্যে সস্তা ‘কিট্রুডা’ আসার আশা

ভারতে ক্যানসার চিকিৎসার খরচ কমার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ‘কিট্রুডা’র জেনেরিক সংস্করণ তৈরির দৌড়ে নেমেছে অন্তত সাতটি ভারতীয় কোম্পানি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৮ সালের জুনে পেটেন্ট শেষ হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যেই বাজারে অনেক সস্তা বিকল্প আসতে পারে।

বর্তমানে এই ওষুধের প্রতি ২০০ মিলিগ্রাম ডোজের দাম তিন লাখ টাকারও বেশি। ফলে অধিকাংশ রোগীর জন্য এটি নাগালের বাইরে। কিন্তু জেনেরিক বা বায়োসিমিলার এলে দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কিট্রুডা

কিট্রুডা মূলত ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে কাজ করে। এটি এমন একটি শ্রেণির ওষুধ, যা শরীরের টি-সেলকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসায় এটি বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

US approves revolutionary drug to fight lung cancer | The Times of Israel

 

জেনেরিক তৈরির দৌড়ে ভারতীয় কোম্পানিগুলো

ভারতের একাধিক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই ওষুধের বায়োসিমিলার তৈরি বা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির তৈরি জেনেরিক সংস্করণেরও পরীক্ষা চলছে ভারতে। ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।

একটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা তাদের ক্যানসার ওষুধের তালিকায় এই ওষুধের বায়োসিমিলার যুক্ত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে, যা বাজারে প্রবেশের গতি আরও বাড়াতে পারে।

পেটেন্ট জটিলতা ও আইনি বাধা

যদিও মূল পেটেন্ট ভারতে সীমিত, তবে বিশ্বজুড়ে এই ওষুধকে ঘিরে প্রায় হাজারের কাছাকাছি পেটেন্ট রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘পেটেন্ট ক্লাস্টার’ ভবিষ্যতে জেনেরিক উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি প্রধান পেটেন্ট শেষ হওয়ার পরও।

আগে একই ধরনের একটি ক্যানসার ওষুধ নিয়েও আইনি লড়াই দেখা গেছে। তবে আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আসার পথ খুলে যায়।

FDA OKs New Keytruda Shot for Cancer - The New York Times

 

নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়োসিমিলার ওষুধ বাজারে দ্রুত আনতে হলে কিছু নীতিগত পরিবর্তন জরুরি। বর্তমানে এসব ওষুধের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে হয়, যা সময় ও খরচ বাড়ায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই নিয়ম সহজ করা হলে দ্রুত সস্তা ওষুধ পাওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে এসব ওষুধকে জাতীয় প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশে সস্তা ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যেই ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর লক্ষ্য হলো বায়োসিমিলার ওষুধের জন্য শক্তিশালী দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আমদানি নির্ভরতা কমানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে

আগে একটি ক্যানসার ওষুধের পেটেন্ট শেষ হওয়ার পর বাজারে একাধিক কোম্পানি ঢুকতে কয়েক বছর সময় লেগেছিল। তখনই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, কিট্রুডার ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা যেতে পারে, যদিও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামে এ বছর ১৭৯ শিশুর মৃত্যু, সরকার বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, হাসপাতালে আজও সারি সারি অসুস্থ শিশু

ক্যানসার চিকিৎসায় বড় স্বস্তি? ২০২৮-এ পেটেন্ট শেষ, দুই বছরের মধ্যে সস্তা ‘কিট্রুডা’ আসার আশা

১২:২১:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ভারতে ক্যানসার চিকিৎসার খরচ কমার বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ‘কিট্রুডা’র জেনেরিক সংস্করণ তৈরির দৌড়ে নেমেছে অন্তত সাতটি ভারতীয় কোম্পানি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৮ সালের জুনে পেটেন্ট শেষ হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যেই বাজারে অনেক সস্তা বিকল্প আসতে পারে।

বর্তমানে এই ওষুধের প্রতি ২০০ মিলিগ্রাম ডোজের দাম তিন লাখ টাকারও বেশি। ফলে অধিকাংশ রোগীর জন্য এটি নাগালের বাইরে। কিন্তু জেনেরিক বা বায়োসিমিলার এলে দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ কিট্রুডা

কিট্রুডা মূলত ক্যানসারের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে কাজ করে। এটি এমন একটি শ্রেণির ওষুধ, যা শরীরের টি-সেলকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। আধুনিক ক্যানসার চিকিৎসায় এটি বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে।

US approves revolutionary drug to fight lung cancer | The Times of Israel

 

জেনেরিক তৈরির দৌড়ে ভারতীয় কোম্পানিগুলো

ভারতের একাধিক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই এই ওষুধের বায়োসিমিলার তৈরি বা অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির তৈরি জেনেরিক সংস্করণেরও পরীক্ষা চলছে ভারতে। ফলে প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে দাম কমার সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে।

একটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা তাদের ক্যানসার ওষুধের তালিকায় এই ওষুধের বায়োসিমিলার যুক্ত করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে, যা বাজারে প্রবেশের গতি আরও বাড়াতে পারে।

পেটেন্ট জটিলতা ও আইনি বাধা

যদিও মূল পেটেন্ট ভারতে সীমিত, তবে বিশ্বজুড়ে এই ওষুধকে ঘিরে প্রায় হাজারের কাছাকাছি পেটেন্ট রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘পেটেন্ট ক্লাস্টার’ ভবিষ্যতে জেনেরিক উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি প্রধান পেটেন্ট শেষ হওয়ার পরও।

আগে একই ধরনের একটি ক্যানসার ওষুধ নিয়েও আইনি লড়াই দেখা গেছে। তবে আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আসার পথ খুলে যায়।

FDA OKs New Keytruda Shot for Cancer - The New York Times

 

নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়োসিমিলার ওষুধ বাজারে দ্রুত আনতে হলে কিছু নীতিগত পরিবর্তন জরুরি। বর্তমানে এসব ওষুধের জন্য পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে হয়, যা সময় ও খরচ বাড়ায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই নিয়ম সহজ করা হলে দ্রুত সস্তা ওষুধ পাওয়া সম্ভব।

একই সঙ্গে এসব ওষুধকে জাতীয় প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

সরকারের নতুন উদ্যোগ

দেশে সস্তা ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যেই ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর লক্ষ্য হলো বায়োসিমিলার ওষুধের জন্য শক্তিশালী দেশীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আমদানি নির্ভরতা কমানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে

আগে একটি ক্যানসার ওষুধের পেটেন্ট শেষ হওয়ার পর বাজারে একাধিক কোম্পানি ঢুকতে কয়েক বছর সময় লেগেছিল। তখনই দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এই অভিজ্ঞতা থেকেই ধারণা করা হচ্ছে, কিট্রুডার ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা যেতে পারে, যদিও কিছুটা সময় লাগতে পারে।