হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপ নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে বাইরে রেখে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।
ইউরোপের নতুন উদ্যোগ: ‘তৃতীয় পথ’
ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে শুক্রবার প্যারিসে ৩০টিরও বেশি দেশের একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং উত্তেজনা কমানোর একটি কার্যকর কূটনৈতিক প্রস্তাব তৈরি করা।
এই উদ্যোগকে ইউরোপ ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে তুলে ধরছে—অর্থাৎ সরাসরি যুদ্ধের পক্ষ না নিয়ে, একটি বিকল্প শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানকে বাদ কেন
ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছে, সেটির প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপ এই উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংঘাতের প্রধান পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
এর মাধ্যমে ইউরোপ নিজেকে এই যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
ইউরোপের ওপর চাপ বাড়ছে
যদিও ইউরোপ বলছে তারা এই যুদ্ধে জড়িত নয়, বাস্তবে তারা এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত সামরিক সরঞ্জামের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ইউরোপ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে।
বহুজাতিক অংশগ্রহণ
এই সম্মেলনে ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
চীনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও তারা কোন পর্যায়ে অংশ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উদ্যোগের পেছনের পরিকল্পনা
এই সম্মেলনের ধারণা এক মাসেরও বেশি আগে তৈরি হয়, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাইপ্রাস সফর করেন। তখন থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প কূটনৈতিক পথ খোঁজার চেষ্টা শুরু করে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপ, এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অংশীদারদের একত্র করে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করা। তবে সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলোকে বাদ দিয়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















