০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন গুদগুদিতে হাসে মানুষ ও বনমানুষ, মিলল হাসির বিবর্তনের ছন্দময় সূত্র ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড জনজীবন, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা বাগেরহাটে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: দুই মাসে হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগী, রেড জোন ঘোষণা শেষ মুহূর্তের গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে হারাল তুরস্ক, তবু গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন মার্কিনিরাই ওয়ার্শ যুগের সূচনা: এশিয়ার মুদ্রাগুলোর সামনে নতুন বাস্তবতার কঠিন পরীক্ষা ইরানের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি নতুন এশিয়ার ভ্রমণ মানচিত্র: বালির গল্পে দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক অর্থনীতির নতুন শক্তি বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই

হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান ছাড়া ইউরোপের ‘তৃতীয় পথ’—কতটা কার্যকর হবে

হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপ নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে বাইরে রেখে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপের নতুন উদ্যোগ: ‘তৃতীয় পথ’

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে শুক্রবার প্যারিসে ৩০টিরও বেশি দেশের একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং উত্তেজনা কমানোর একটি কার্যকর কূটনৈতিক প্রস্তাব তৈরি করা।

এই উদ্যোগকে ইউরোপ ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে তুলে ধরছে—অর্থাৎ সরাসরি যুদ্ধের পক্ষ না নিয়ে, একটি বিকল্প শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা।

Middle East: USA, Iran and USA

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানকে বাদ কেন

ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছে, সেটির প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপ এই উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংঘাতের প্রধান পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এর মাধ্যমে ইউরোপ নিজেকে এই যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

 

ইউরোপের ওপর চাপ বাড়ছে

যদিও ইউরোপ বলছে তারা এই যুদ্ধে জড়িত নয়, বাস্তবে তারা এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত সামরিক সরঞ্জামের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ইউরোপ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে।

বহুজাতিক অংশগ্রহণ

Trump's threat to blockade Strait of Hormuz leaves more questions than  answers

এই সম্মেলনে ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চীনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও তারা কোন পর্যায়ে অংশ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উদ্যোগের পেছনের পরিকল্পনা

এই সম্মেলনের ধারণা এক মাসেরও বেশি আগে তৈরি হয়, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাইপ্রাস সফর করেন। তখন থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প কূটনৈতিক পথ খোঁজার চেষ্টা শুরু করে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপ, এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অংশীদারদের একত্র করে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করা। তবে সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলোকে বাদ দিয়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শি: বাংলাদেশের সঙ্গে উচ্চমানের বিআরআই সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন

হরমুজ প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান ছাড়া ইউরোপের ‘তৃতীয় পথ’—কতটা কার্যকর হবে

০৬:১৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপ নতুন এক কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে বাইরে রেখে বিকল্প সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সফল হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।

ইউরোপের নতুন উদ্যোগ: ‘তৃতীয় পথ’

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে শুক্রবার প্যারিসে ৩০টিরও বেশি দেশের একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালীতে আবারও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং উত্তেজনা কমানোর একটি কার্যকর কূটনৈতিক প্রস্তাব তৈরি করা।

এই উদ্যোগকে ইউরোপ ‘তৃতীয় পথ’ হিসেবে তুলে ধরছে—অর্থাৎ সরাসরি যুদ্ধের পক্ষ না নিয়ে, একটি বিকল্প শান্তিপূর্ণ সমাধান খোঁজা।

Middle East: USA, Iran and USA

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরানকে বাদ কেন

ছয় সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর যে সংঘাত শুরু হয়েছে, সেটির প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপ এই উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সংঘাতের প্রধান পক্ষ—যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—কাউকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এর মাধ্যমে ইউরোপ নিজেকে এই যুদ্ধের সরাসরি অংশীদার নয়, বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

 

ইউরোপের ওপর চাপ বাড়ছে

যদিও ইউরোপ বলছে তারা এই যুদ্ধে জড়িত নয়, বাস্তবে তারা এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য নির্ধারিত সামরিক সরঞ্জামের একটি অংশ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফলে ইউরোপ অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়েছে।

বহুজাতিক অংশগ্রহণ

Trump's threat to blockade Strait of Hormuz leaves more questions than  answers

এই সম্মেলনে ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতো নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চীনকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও তারা কোন পর্যায়ে অংশ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

উদ্যোগের পেছনের পরিকল্পনা

এই সম্মেলনের ধারণা এক মাসেরও বেশি আগে তৈরি হয়, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সাইপ্রাস সফর করেন। তখন থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলো বিকল্প কূটনৈতিক পথ খোঁজার চেষ্টা শুরু করে।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপ, এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অংশীদারদের একত্র করে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রস্তাব তৈরি করা। তবে সংঘাতের প্রধান পক্ষগুলোকে বাদ দিয়ে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।